মানুষের জীবন
পৃথিবীতে যত মানুষ আছে , সকল মানুষ যেকোনো ২টির ১ টি পদ্ধতিকে অবলম্বন করে দুনিয়াতে তার জীবন অতিবাহিত করে। একটি হল রহমানি জিন্দিগি , অপরটি হল নফসায়ি জিন্দিগি, বা রব মানা জিন্দিগি ও মন মানা জিন্দিগি। সকল মানুষই এই দুই জীবন ব্যবস্থার নিয়ম কে অনুসরণ করার এখতিয়ার রয়েছে। কেউ রহমানি জিন্দিগি অনুসরণ করে , আবার কেউ নফসায়ি জিন্দিগি অনুসরণ করে।
রহমানি বা রব মানি জিন্দিগি হল, যিনি করেন সব তিনিই হলেন রব। ঐ রব কে মেনে জিন্দিগি চালানো , রবের হুকুম অনুযায়ী দুনিয়াতে চলা। আর নিষেধ সমূহ কাজ থেকে নিজে কে বিরত রাখা।
নফসায়ি বা মন মানি জিন্দিগি হল, মনের খেয়াল খুশি অনুযায়ী নিজের জীবন অতিবাহিত করা । মনের খায়েশাত অনুযায়ী চলা । যে মানুষ নিজের মনের ইছারনুজায়ি চলবে তার এবং হিংস্র হায়নার , পশুর মধ্যে কোন পার্থক্য থাকবে না।
রহমানি বা রব মানি জিন্দিগি হল, যিনি করেন সব তিনিই হলেন রব। ঐ রব কে মেনে জিন্দিগি চালানো , রবের হুকুম অনুযায়ী দুনিয়াতে চলা। আর নিষেধ সমূহ কাজ থেকে নিজে কে বিরত রাখা।
নফসায়ি বা মন মানি জিন্দিগি হল, মনের খেয়াল খুশি অনুযায়ী নিজের জীবন অতিবাহিত করা । মনের খায়েশাত অনুযায়ী চলা । যে মানুষ নিজের মনের ইছারনুজায়ি চলবে তার এবং হিংস্র হায়নার , পশুর মধ্যে কোন পার্থক্য থাকবে না।
নফস সম্পর্কে আল্লাহ্ কুরআনে আয়াত নাযিল করেন , অর্থ, হে মানুষ তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক নফস থেকে ।
১. ‘নাফসে আম্মারাহ’ বা খারাপ কাজের নির্দেশ দানকারী আত্মা। নাফসে আম্মারার স্বভাবগত চাহিদা এটাই যে, মন্দ কামনা, শয়তানের অনুসরণ, কু-প্রবৃত্তির বাসনা চরিতার্থ করা, যাতে করে হারাম কাজ করা তার জন্য সহজতর হয়। আল্লাহ বলেন, وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي إِنَّ النَّفْسَ لأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ إِلاَّ مَا رَحِمَ رَبِّيَ إِنَّ رَبِّي غَفُورٌ رَّحِيمٌ ‘আমি নিজেকে নির্দোষ বলি না, নিশ্চয়ই মানুষের মন মন্দ কর্মপ্রবণ, কিন্তু সে নয়, যার প্রতি আমার পালনকর্তা অনুগ্রহ করেন; নিশ্চয়ই আমার পালনকর্তা অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (ইউসুফ ১৬/৫৩)।
২. ‘নাফসে লাওওয়ামাহ’ বা ধিক্কার দানকারী আত্মা। এ প্রকারের আত্মায়ও মন্দ, শয়তানী কুমন্ত্রণা, কুপ্রবৃত্তির বাসনা ইত্যাদি জিনিসের উদয় হয়; তবে পরক্ষণেই এই নাফসের অধিকারী ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য নিজেকে অধিক ধিক্কার দেয়, তিরস্কার করে, অনুশোচনা প্রকাশ করে, অনুতপ্ত হয় ও লজ্জাবোধ করে। কেননা তাতে সামান্যতম হ’লেও ঈমানের জ্যোতি বিদ্যমান। আল্লাহ বলেন,لَا أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَلَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ اللَّوَّامَةِ- ‘আমি শপথ করি ক্বিয়ামত দিবসের, আরও শপথ করি সেই আত্মার, যে নিজেকে ধিক্কার দেয়’ (ক্বিয়ামাহ ৭৫/১-২)।
৩. নাফসে মুত্বমাইন্নাহ বা প্রশান্ত আত্মা। এই প্রকারের আত্মা আল্লাহর আনুগত্য ও যিকর দ্বারা মনে প্রশান্তি অনুভব করে। সকল প্রকার আনুগত্যের কর্মকান্ড সম্পাদন করে ঈমানের পরিপূর্ণ স্বাদ লাভ করে এবং সমস্ত অন্যায় ও সীমালংঘন থেকে সে পরিপূর্ণ রূপে মুক্ত থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ، ارْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَّرْضِيَّةً، فَادْخُلِي فِي عِبَادِي، وَادْخُلِي جَنَّتِي- ‘হে প্রশান্ত আত্মা, তুমি প্রশান্তচিত্তে তোমার পালনকর্তার দিকে ফিরে চলো। অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর’ (ফজর ৮৯/২৭-৩০)।
নফসে মুত্বমাইন্নাহ হল ঐ স্তর যা মানুষ মেহনত করে , সময় দিয়ে , ধ্যান সাধনা করে অর্জন করে ... তখন তার নামাজে পরিতিপ্তি আসে , জিকিরে আত্মা শান্তি পায় , কুরআন তেলয়াতে আল্লাহ্র নৈকট্য অর্জন হয়। তখন আল্লাহ্ তাকে ভালোবাসেন , মানুষও তাকে ভালোবাসেন।
এই দুই জিন্দিগির বাহিরে আর কোন জিন্দিগি মানুষের সামনে নাই , যা সে দুনিয়াতে অতিবাহিত করতে পারে। আল্লাহ্র ওয়াদা জান্নাত পেতে হলে আল্লাহ্র হুকুমে জীবন চালাতে হবে।
তাই মানুষের অন্ধকার জীবনকে আলোকিত করার জন্য দাওয়াতে ইল্লাল্লাহ ছাড়া আর ২য় কোন রাস্তা নেই। আল্লাহ্ বলেন, " তার কথা থেকে কার কথা উত্তম হতে পারে যে মানুষকে আল্লাহ্র দিকে ডাকে নিজে নেক আমল করে এবং বলে আমি সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে এক জন।।" - হা মিম সেজদা ৩৩ ।