আহমেদ লাট সাহেব (দা.বা.)

২০১৪ টঙ্গি ইজতেমা (১ম পর্ব) বাদ মাগরিব বয়ান
হযরত মাওলানা আহমেদ লাট সাহেব (দা.বা.)  

আল্লাহ তায়ালার হামদরাসূলুল্লাহ (স:) এর উপর দুরূদপবিত্র কুরআন শরীফের আয়াত এবং হাদীসে পাক থেকে তেলাওয়াতের পরে হযরত মাওলানা বলছেন-

কাবেলে এহতেরাম ভাইয়ো দোস্ত আযিযো আওর বুযুর্গো!

আল্লাহ জাল্লা জালালুহু আম্মা নাওয়ালুহু প্রত্যেক যামানায় মানুষকে তাঁর সাথে পরিচয় করিয়েছেন। যেহে মানুষআমাকে চিনোআমি কেএমনকি যে সমস্ত আম্বিয়ায়ে কেরাম ও রুসুলে এজাম আলাইহিমুস সালাতু ওয়া তাসলিমাত কে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতে তাঁর বান্দা বান্দিদের রাহবারির জন্যহেদায়েতের জন্যরাস্তা দেখাবার জন্যকোনটা ভাল আর কোনটা মন্দ তা বুঝানোর জন্য পাঠিয়েছিলেন। তাদেরকেও সর্বপ্রথম তাঁর সাথে পরিচয় করিয়েছেন।

আজকে সারা দুনিয়াতে মানুষ বলছে আমি জানিআমি জানিআমি জানি। অথচ আল্লাহ জাল্লা জালালুহু আম্মা নাওয়ালুহু পরিষ্কার বলে দিয়েছেনঅর্থাৎ-জেনে রেখোতিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই।

কিসের আমি জানিআমি জানিআমি জানিজানার বিষয় হলো এটাযা তোমাকে জানতে হবে তা এই জানো যেআল্লাহ- তিনি ছাড়া আর কেউ কিছু নয়। বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন রাস্তায় আল্লাহ তাআলা নবী রাসূল গণকে তার সাথে পরিচয় করিয়েছেন। কখনো মুর্দাকে জীবিত করে দিয়ে। কখনো সাপকে লাঠি বানিয়েলাঠিকে সাপ বানিয়েআবাবিলের মাধ্যমে তাঁর সাহায্যকে পাঠিয়েকখনো কোন কওমকে জমিনে ধ্বসিয়ে দিয়েকখনো কোন জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েযখন সামনে সব দরজা বন্ধএমন অবস্থায় তার সাহায্যকে পাঠিয়ে। আমাকে চেনো আমি কেখালিক কেউ আছে তো সেটা আমিইমালিক আছে তো আমিরাজ্জাক আমিহাফিজ আমিক্বদির আমিমুহয়ি আর মুুমিন আমিমুওয়াকি ও মানি আমি। আমি ছাড়া আর কেউ কোন কিছু নয়।

এই জন্য এই মানুষকে আল্লাহ তাআলা আশরাফুল মাখলুকাত বানিয়েছেন। আর কত ছোট বড় মাখলুকের মধ্যে! শারাফত ও কারামতের তাজসম্মান ও বুজুর্গির মুকুট এই মানুষের মাথায় পড়ালেন। আর এর অনেক উন্নতিঅনেক সম্মানঅনেক মর্যাদাঅনেক যোগ্যতার কথা আল্লাহ তাআলা বয়ান করেছেন। আর কছম খেয়ে খেয়ে বয়ান করেছেন।

এই মানুষকেও বলে দিয়েছেবুজুর্গি তোমার ততক্ষণকারামত ততক্ষণযোগ্যতা ও মূল্য তোমার ততক্ষণসম্মান ও মর্যাদা শুধু তুমি ঐ সময় পর্যন্ত পাবেযতক্ষণ তুমি আমার বান্দা হিসেবে জীবন যাপন করবে। এই জন্যউলামায়ে কেরাম লিখেছেনমানুষের জীবনের প্রথম উদ্দেশ্যমানুষ হওয়ার যোগ্যতাপুরুষ হোক বা মহিলাআরবী হোক বা আজমীপূর্বের হোক বা পশ্চিমাব্যবসায়ী হোক বা মজদুরহাকিম হোক বা মাহকুম হোকমালদার বা গরীবযে যেখানে যে অবস্থায়আদম (আঃ) ও হাওয়ার সন্তান যাকে বলা হয়তার জীবনের প্রথম উদ্দেশ্যনিজের খালিককেনিজের মালিককে, নিজের পালনকর্তাকেসবকিছু কর্তা ধর্তাকে মানাতাকে চেনাতাকে মানাতার হুকুমকে মানা। এটা প্রথম ফরজফরজে মানছাবী বলে একে।

এই জন্য এক  জায়গায় ঐ সব মানুষকে যারা তাদের রবের পরিচয় থেকে দূরেকিন্তু পেট্রোলের সাথে তাদের পরিচয় আছেতারা প্লাটিনামকে চেনেভূমন্ডলের উপরের জগৎসমূহের খোঁজ খবর রাখেঠান্ডা ও গরমের মৌসুমআর এই তারকা থেকে ঐ তারকা কতগুণ বড়ভূ-পৃষ্ঠ থেকে আকাশের মধ্যবর্তী দূরত্ব সবকিছু জানে। জানে না তো শুধু নিজের খালিক ও মালিককেই জানে না। কুরআন শরীফে বলে দিয়েছেসে নিজেকে চাই যা কিছুই মনে করুক না কেনএরা চতুষ্পদ পশুর মত বরং এর চেয়েও নিকৃষ্ট। কারণ একটা পশুও তার চরানে ওয়ালাকেতার দেখাশুনা করনেওয়ালাকেশীতের সময় শরীরে কাপড় পেচিয়ে দেয়া আর গরমের সময় শরীরে ঠান্ডা পানি ছিটিয়ে দেনেওয়ালাকে চেনে। যে কোন জায়গায় ওকে ছেড়ে দাওসোজা ওর মালিকের ঘরে গিয়ে দাঁড়াবে। এতটুকু শিক্ষাও তো তুমি ওর থেকে নাও!

এই জন্য এক জায়গায় আল্লাহ তাআলা খুব জালালের মধ্যেখুব ক্রোধান্বিত অবস্থায় বলছেনসর্বনাশ হোক ঐ ব্যক্তিরসর্বনাশ হোক ঐ ব্যক্তিরসে এত অকৃতজ্ঞ যেযার চোখ আমার দেয়াজবান আমার দেয়াকান আমার দেয়াজীবন আমি দিলামআকাশ এর জন্যজমিন এর জন্যচন্দ্র সূর্য এর জন্যফল-মূল ও প্রকৃতির সবকিছু এর জন্যে। যদি আল্লাহর নেয়ামত সমূহ গুণতে চাওতবে তা গুণে শেষ করতে পারবে না। এই সবকিছু আমি এর জন্যে দিলাম। আর এ দম্ভ ভরে বুক ফুলিয়ে চলেআমার না-শোকরি করেআমার নাফরমানি করে। অথচ শয়তানকে তো খুব মেনে চলে। শয়তান ওকে নাচিয়ে নেয়। এই জন্যে আল্লাহ তাআলা সূরা আদিয়াতে মানুষকে শিক্ষা দিচ্ছেন যেএতটুকু তো বুঝ!

আল্লাহ জাল্লা জালালুহু বিভিন্ন সময়ে প্রত্যেককে নিজের সাথে পরিচয় করিয়েছেন। একটা অসহায় শিশু যার কাছে না খাবার মত কোন দুধ আছেনা পানি আছে। সমুদ্রের ঢেউয়ের ভিতরে ভাসছে। যার থেকে বাঁচানোর সমস্ত প্রচেষ্টাতার কোলেই পৌঁছালো। আর তার কোল থেকে বাঁচিয়ে নিজের ওয়াদাকে পুরা করলেন।

হযরত মুসা (আঃ) এর মাকে বলা হলো তার বাচ্চাকে সিন্দুকে ভরে সমুদ্রে ফেলে দিতে। এটা কি কোন মায়ের দ্বারা করা সম্ভবযে মা নিজের কোল থেকে তার শিশুকে দূরে করতে চায় নানিজের বুক থেকে কখনো পৃথক করতে চায় নাসেই মানিজের হাতেএই অসহায়কেএইভাবেহ্যাহ্যাঐভাবেই করো যেভাবে আমি বলি। আমি ইলহাম করলাম মূসা (আঃ) এর মাকে। তুমি কেতুমি এর মা। আর মা হওয়ার সুবাদে তোমার এই বাচ্চাকে দুধ পান করাতে হবে। মাবুদ আমিমাকসুদ আমিখালিক আমিহাফিজ আমি,সবকিছুর কর্তাধর্তা আমি। আমি বলছিএকে সিন্দুকের মধ্যে ভরোআর এর পর সমুদ্রের ভিতর ফেলে দাও। এর সাথে আমি এও বলছিযত রাস্তা আছে ভয়েরসমুদ্রের ঢেউ বড় ভয়ের। এই বুঝি ডুবে গেলএই বুঝি মরে গেল। ভয়ের রাস্তা দুনিয়াতে অনেক আছে। আকাশ খারাপ হবেবিদ্যুৎ চমকাবেভূমিকম্প হবেসব আমার হাতে। কোন অবস্থাতেই ভয় পাবেনা। ভয় পাবার মত অবস্থা অনেক আছে। কোথাও জমীনকোথাও রাজত্বকোথাও সম্পদকোথাও ক্ষমতাকোথাও অস্ত্রকোথাও সংখ্যাধিক্যকোথাও সৈন্যবাহিনীকোথাও পাওয়ারভয় দেখানোর উপকরণ অনেক আছে। এই জন্য মনে রেখোকুরআনুল কারীমে যত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম ওয়া তাসলিমাতরুসুলে এযাম আলাইহিমুস সালাম ওয়া তাসলিমাত এর ঘটনা বর্ণিত হয়েছেসেগুলো শুধু নিছক গল্প নয়বরং এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত নিয়ম। কারণ এই কুরআন হুদাল্লিন্নাস। যে যেখানে যে অবস্থাতে আছেতার রাহবারিপথ প্রদর্শন কুরআন থেকে মিলবে। সে কুরআনের নির্দেশিত পথে নিজের জীবন পরিশুদ্ধ করতে পারবে। বিভিন্ন অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে মানবজাতির পথ প্রদর্শণ কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। কেয়ামত পর্যন্ত সমস্ত মানুষের জন্য। অবস্থা বিভিন্ন রকম হবেনকশা বিভিন্ন রকম হবে। জিভে পানি এসে যাওয়ার মত অবস্থালালা টপকে পড়ার মত অবস্থাএমনকি ঈমান বিক্রি হয়ে যায়আকিদার সর্বনাশ হয়ে যায়আর আগে বাড়তে বাড়তে বাড়তে বাড়তে মানুষ পশুর কাতারে চলে যায়। লোভের শেকেলেঅবস্থা অনেক আছে। লোভে ফেলার নকশা অনেক আছে। ভয় দেখানোর শেকেল অনেক আছে। এই সমস্ত রাস্তা থেকে কুরআন কেয়ামত পর্যন্ত সমস্ত মানুষকে সতর্ক করছে। বুঝাচ্ছে। শিক্ষা দিচ্ছে। ভয় করবে নাবিপদে ভীত সন্ত্রস্ত হবে না। দুশ্চিন্তা করবে না। আমার কথা মত কদম উঠাও।

ঘটনাতো হযরত মূসা (আঃ) এর মায়ের। আর আয়াত সমূহ তার সম্পর্কিত। কিন্তু এটা নসীহত আমার জন্যেনসীহত পুরা মজমার জন্যেনসীহত পুরো দেশের এক এক বাসিন্দার জন্যেপুরো পৃথিবীর সমস্ত মানুষের জন্যে। ওহে মানুষ! যাকে তুমি ভয় করবে সেই সত্ত্বা হলেন শুধুমাত্র আল্লাহ। যার কাছে কিছু পাবার আশা করা যায়সেই সত্ত্বা শুধুমাত্র আল্লাহ। আল্লাহ বলছেনআমি ওয়াদা করিওয়াদা ভঙ্গ করি নাআমি মিথ্যা বলি না।
আল্লাহর চেয়ে সত্য কথা আর কার হতে পারে?

আমি বলছি। আমি যা বলছি তা তুমি করো। যে কোল থেকে আমি নিচ্ছি সেই কোলেই আবার এই বাচ্চাকে ফিরিয়ে দিয়ে দেখাবো। আর শুধু মূসা হিসেবে পাঠাবো না। শুধু মূসা বানিয়ে ফিরিয়ে দেবো না। সমস্ত মানব জাতির মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ হলেন আল্লাহর নবীগণ (সাল্লাল্লহু আলাইহিম ওয়া সাল্লাম)। নবুওতের মুকুটপয়গম্বরির তাঁজ মাথায় পড়িয়ে পাঠাবো।

নিজের সাথে পরিচয় করাচ্ছেন। এই শিশুর মাধ্যমে। ঐ শিশুর মাধ্যমে যার মায়ের বুকে দুধ নেই। দুধের কোন ব্যবস্থা নেই। পানি পান করাতে চায়তো সামান্যটুকু পানিও নেই। শরীর বিক্ষত হচ্ছে। বাপ আল্লাহর রাস্তায় আছে। আর মা! মায়ের মমতা তো বড়ই প্রসিদ্ধ। কখনো সাফাকখনো মারওয়া কখনো সাফাকখনো মারওয়াকখনো এখানে কখনো ওখানে,কেউ আমার এই বাচ্চাকেঈসমাইলকে একটু পানি পান করিয়ে দিক। এক ফোঁটা পানি। কোন কাফেলাকোন মানুষ। এখানে কী দেখানো হচ্ছেমানুষকে না তার বাপ পালেনা মা পালেনা ভাইনা ছেলে। না কারখানা পালে না ফ্যাক্টরি। না জমিন না আসমান। পরওয়ারদিগারপালনকর্তারিযিকদাতা শুধু এবং শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলা। আল্লাহ তাআলা দেখালেনকিভাবে ঈসমাইল (আঃ) কে বড় করলেন। কিভাবে তাকে হেফাজত করলেন। আর শুধু কি তাকে রুটি খাইয়ে হেফাজত করলেনকত বড় কাজ নিলেন তার মাধ্যমে। কত বড় নবীকত বড় পয়গম্বর, সমস্ত নবীর সর্দারহযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সেই বিক্ষত শরীরের শিশুক্ষুধার্থ সেই শিশুর বংশ থেকে তৈরী করলেন। আমাকে চেনো আমি কেআমাকে চেনো আমি কেআমাকে চেনো আমি কে। লা ইলাহা ইল্লাল্লহ। করনেওয়ালা জাত শুধু আমি।

তোমরা দেখ নাইইউসুফ (আঃ) এর ভাইয়েরা তার সাথে কেমন আচরণ করলভাইদের কারনে তো সে জেলে গেল। জেল থেকে বের করে ইউসুফ (আঃ) কে প্রাসাদে কে নিয়ে গেলআমাকে চেনো আমি কেজঙ্গলে ভরা প্রান্তরে হেফাজত করনেওয়ালা আমি। সমুদ্রের ঢেউ থেকে বাঁচিয়ে তীরে ফিরিয়ে এনে নিজের মায়ের কোলে পৌঁছে দেনেওয়ালা আমি। বালিকে আটায় পরিণত করনেওয়ালা আমি। জেল থেকে প্রাসাদে পৌঁছানে ওয়ালা আমি। আমাকে চেনোআমি কে?

এই জন্য সমস্ত নবীসমস্ত পয়গম্বর আলাইহিমুস ছালাম ওয়া তাছলিমাতযারা প্রত্যেক যামানাতে নিজ নিজ কওম ও নিজ নিজ উম্মতরে প্রতি কল্যাণকামী হিসেবে এসেছেন আর আল্লাহ তাদেরকে পাঠিয়েছেনতাদের সবার দাওয়াতের প্রথম কালেমাপ্রথম আহ্বানপ্রথম আওয়াজ এই ছিলকুলু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহতুফলিহু। আল্লাহকে মেনে নাও। তারই নামের যিকির করোদেখ তো তার নজরেই দেখশুনো তো তার কথা শুনোবলো তো তার কথা বলো। চিন্তা করলে তার কথা চিন্তা করোভিক্ষার জন্য হাত বাড়াবে তো তারই দরবারে যাও আর তার দাওয়াত পুরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দাও। আল্লাহআল্লাহআল্লাহ।

আমরা আল্লাহর বান্দা। প্রতিটা মানুষনারী হোক বা পুরুষআল্লাহর বান্দা আর আল্লাহর বান্দি। পূর্ববর্তী উম্মত অতিবাহিত হয়ে গেছে। পূর্ববর্তী নবীগণ (আঃ) অতিবাহিত হয়ে গেছেন। আরো যারা আছে সবার জন্য। হুযুর সল্লাল্লাহি আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ তাআলা বলছেনআপনি আপনার জবান দ্বারা এই কথা বলে দিনহে মানবজাতি! তোমাদের সবার জন্য আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন। তোমার মাল কোথায় ব্যয় হবেতোমার সময় কোথায় ব্যয় হবেতোমার যোগ্যতা কোথায় লাগবেসৃষ্টির সেরা তুমি কিভাবে বনবেদুনিয়া কিভাবে বানাবেআখিরাত কিভাবে বনবেসব বিষয়ের রাহবারিপথ প্রদর্শন আমি করব। আল্লাহু আকবার। দো জাহানের বাদশা হুযুর (সাঃ) এর জন্মের পরে কি অবস্থা হলো!

যেমন ওদিকে ইবরাহীম (আঃ) এর শাহজাদা ইসমাইল (আঃ)। হযরত ইয়াকুব (আঃ) এর চোখ সাদা হয়ে গিয়েছিল কাঁদতে কাঁদতে। হায় আমার আদরের ইউসুফ। এদিকে যেমন হযরত মূসা (আঃ) এর মা।

তো রাসূলে কারীম (সাঃ) এর জন্ম হল। দোজাহানের বাদশাহের জন্ম। জন্মের পরেই তো বাপ মারা গেল। এতিম সন্তান। আর তৎকালীন আরবের প্রথা অনুযায়ী মহিলারা তাদের বাচ্চাকে নিয়ে ঐ মেলায় যেতযেখানে দুধপানকারিণী মহিলারা অর্থের বিনিময়ে ঐ বাচ্চাকে নিয়ে যেত। বাহ! আল্লাহর কি শান! আমরা তোমকেই চিনছি। আমিনাও তার আদরের সন্তানকে নিয়ে আসলেন এই মেলায়। হুযুর (সাঃ) কে দুধ পানকারিণী আসছেন। এই বাচ্চা অমুক গোত্রেরঅমুক খান্দানেরএর জন্য এত দৌলতএত টাকা দেওয়া হবে। এই বাচ্চাকে দুধ পান করাবে তো এটা পাবেএটা পাবে। আমিনার সন্তানের ওপর যখন কারো নজর পড়েও হোবাপ তো নাই-ইদাদার বারো ছেলেবারো পরিবার। আর ঐ বারো জনের কত গুলো করে সন্তানএতসব নাতি নাতনীর মধ্যে একজন! যদি আমরা একে দুধ পান করাই তবে আর কি মিলবেআমিনার কোলের দিকে কেউ হাত বাড়াতে রাজী নয়।

আল্লাহ করুকআল্লাহ করুক। আমরা এই আমিনার আদরের সন্তানের দাওয়াতের জন্য জান পেশ করনেওয়ালাআমিনার প্রিয় পুত্রের জন্য জীবন উৎসর্গকারী হই। সে আমিনার পুত্র,মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ (সাঃ)যে পুরো মানব জাতির জন্য সবচেয়ে বড় হিতাকাঙ্খী। যদি আমিনার কোলের দিকে কেউ হাত না বাড়ায়তবে সেটা তার দুর্ভাগ্য। মুহাম্মদ (সাঃ)যে আমিনার কোলের সেই সোনার টুকরাতার দিকে হাত বাড়ানো তো নবুওতের এই সহজ সরল রাস্তাএই কাজের দিকে হাত বাড়ানো। অনেক কষ্টে একজন মহিলা এগিয়ে আসল।

এইজন্য নবুওতের এই কাজ মাল দৌলতের দ্বারাএই কাজ হুকুমতের দ্বারাএই কাজ ক্ষমতার দ্বারাজমীনের দ্বারাদুনিয়ার কোন নকশার দ্বারা আল্লাহ তাআলা নিবেন না। একজন গরীব মহিলাযার স্তনে নিজের পেটের সন্তানদের জন্যই পর্যাপ্ত দুধ নেইএই কথা ভেবে এগিয়ে এলো যেএরা তো সবাই নিয়ে গেলআমি কি খালি কোল নিয়েই ফিরে যাবো?

এই পুরা মজমার কাছে আমাদের দরখাস্তযারা দুনিয়া লুটছেতাদেরকে লুটতে দাও। লড়তে দাও তাদেরকে। ক্ষমতার জন্যকুরছির জন্য তারা মারপিট করুকলুটপাট করুক,করতে দাও। আমি বলছি। তোমরা আখিরাত ওয়ালা বনো।

এই এস্তেমার প্রতিটা লোকযেমন মা হালিমা এসে হুযুর (সাঃ) কে নিয়ে গেলেনএই মজমার প্রতিটা লোক হুযুর (সাঃ) এর দাওয়াতকেহুযুরওয়ালী কালেমাকেহুযুরওয়ালী নামাযকেহুযুরওয়ালী এলেমকেহুযুরওয়ালী আমলকেহুযুরওয়ালী বদর ওহুদ খন্দক তবুককেহুযুরওয়ালী হিজরত ও নুসরতকে সাথে নিয়ে যাক। আল্লাহর জন্য এটা কোন কঠিন কাজ নয়।

এদিকে হালিমা সাদিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহাঐ একই তো কথাআল্লাহ যার ভাগ্য খুলে দেন! ওদিকে মূসাও ছোট বাচ্চাইউসুফ বাচ্চাইবরাহীম (আঃ) এর ছেলে ইসমাইল বাচ্চা। ওখানে মুসা (আঃ) এর মা একজন মহিলাহাজেরা একজন মহিলা। আল্লাহ তাআলা দেখাচ্ছেন। নিজের সাথে পরিচয় করাচ্ছেন।

তো হালিমা সাদিয়া (রাঃ) নিয়ে নিলেন। তারপর উনি কি বললেনপ্রথম দিন থেকেই বরকত। নিজের সন্তানের জন্যই পর্যাপ্ত দুধ ছিল না। আর এখন এ বাচ্চাকে কোলে নেয়ার পরে,উভয় সন্তানের পেট ভরে পান করার মত দুধ! চেনো আল্লাহ তাআলাকেচেনো আল্লাহর নবীকে। আল্লাহর জন্য জীবন দিয়ে দাওনবীর পিছু ধরোআর নবীর পথে বের হয়ে পড়ো,তারপর দেখ বরকতদেখ রহমতদেখ নুসরতদেখ সাহায্যদেখ নিরাপত্তাদেখ শান্তিদুনিয়াতেও আর আখেরাতেও।

কি বলা হয়েছেএটা সেই এতীমযে পড়তেও জানে নালিখতেও জানে না। আল্লাহ নিজের সাথে পরিচয় করিয়েছেন। আপনাকে পড়াবো তো আমি। আপনাকে আগে বাড়াবো আমি। বড় করবো আমিপড়াবো আমি। সবার সর্দারির তাঁজ এর মাথায় পড়াবো। এখানেও একটা বাচ্চার শেকেলে। প্রত্যেক রাস্তায় আল্লাহ নিজের সাথে পরিচয় করিয়েছেন। নবুওতের তাঁজ কত বড়! মা-বাপ তো কেউ নেইযারা দুএক জন ছিলেন তারাও চলে গেলেন। দাদাও গেলেনচাচাও গেলেন। আল্লাহ তাআলা সবক পড়াচ্ছেননা দাদা রাজ্জাকনা বাপ রাজ্জাকনা চাচানা ভাইএরা কেউ রিজিক দেনেওয়ালা নয়। না বিদেশ থেকে প্রাপ্ত অর্থনা তোমার জমীন থেকে উৎপন্ন শস্য। রাজ্জাকরিজিক দেনেওয়ালা জাত শুধুমাত্র আল্লাহ।

হুযুর (সাঃ) এর কি শৈশব! তারপর নবুওতের তাঁজ তাকে দেওয়া হল। সবচেয়ে ভাল কাজ বলা হল। যে নবীর কাজকে নিজের কাজ বানাবেনবীর মেহনতকে নিজের মেহনত বানাবে,নবীর চোখের পানিকে নিজের অশ্র বানাবেনবীর কালেমাকেনবীর ব্যথাকেনবীর সেজদাকেনবীর নামাজকেনবীর সফরকে ও তার ঘরে অবস্থানকেনবীর হিজরতকে,নুসরতকেনবীর কাজকে যে নিজের কাজ বানাবেআর যে যত বেশি নবীর রং ও রূপ নিজের মধ্যে আনবেসে নিজের চোখেই দেখবে আল্লাহর সাহায্য।

আর এর সাথে এই কথাও শুনে রাখোযে যতো নবীর বিরোধীনবীর রাস্তা ছেড়ে এদিকে চলবোওদিকে চলবোএটা করবোওটা করবোএটা নিয়ে নেইওটা নিয়ে নেইএকে হাত করিওকে খুশি করিওমুকের সাথে যোগাযোগতমুকের সাথে যোগাযোগতার সাথে কনটাক্ট। মার খাবেমার খাবেআর এতই মার খাবে যে বত্রিশটা দাঁতের একটাও থাকবে না।

যে কোন ব্যক্তিপূর্ব থেকে পশ্চিমেউত্তরে বা দক্ষিণেপুরুষ হোক বা মহিলাছোট হোক বা বড়ব্যবসায়ীমজদুরহাকিমমাহকুমযে যেখানে যে লাইনেযে কোন শ্রেণীতে,হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সাথে বিরোধিতা করবে অথবা কোন ফিৎনায় জড়িয়ে পড়বে আর যদি সে তওবা করা ছাড়া এস্তেগফার করা ছাড়া নিজের জীবনের রোখ শুদ্ধ করা ছাড়া,মেহনতের গন্তব্যউদ্দেশ্য পরিবর্তন করা ছাড়া মারা যায়তবে সেখানে সে আজাবান আলীমকঠিন আজাবে গ্রেফতার হবে

পুরা মজমা এই এক্বীনের সাথে যেদাওয়াতের এই সাদাসিদা মেহনতএই উমুমি মেহনতযদি আমিনার কোল থেকে হযরত হালিমা (রাঃ) নেওয়ার ফলে তার ভাগ্য খুলে যায়। আর তার নিজের কওম সহ পুরা দুনিয়ার হেদায়েতের সামানহেদায়েতের মাধ্যম তার কোলে পৌঁছানো হয়। আল্লাহর কসম! যদি এই মেহনতকে আমরা মেহনত বানাইআর এই পুরা মজমা এই নিয়ত করে নেয়যদি হযরত হালিমা (রাঃ) ঐ এতীম বাচ্চাকে নিজের কোলে নিয়ে নেয়এই মজমার এক একজন ব্যক্তিযে যেখান থেকে এসেছেআমাদের বিদেশী মেহমান যত আছেদেশী মজমা যত আছেপ্রত্যেকে এই অনুভুতি নিয়ে যাই যেআমরা আমাদের কোল ভরে এই মেহনতকে নিয়ে যাচ্ছি। দাওয়াতের এই কাজকে আপন সিনায় জড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছি। জীবনের উদ্দেশ্য বানিয়েজীবন এতেই ব্যয় করবমাল এতেই খরচ করবযোগ্যতা এর জন্যই ব্যবহার করব। হযরত হালিমার (রাঃ) কোল থেকে ছড়িয়ে পড়া সমস্ত বরকতসমস্ত রহমত আমরাও পাবেযখন এই মেহনতকে করতে থাকব মনপ্রাণ দিয়েচোখকান খুলে। মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকি বাছিরাতের সাথে

আল্লাহর ঐ নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামযাকে কেউ বুকে জড়িয়ে নিচ্ছে নাদুধ পান করানোর মত কেউ নেইযাকে কেউ কোলে নিচ্ছে নাযার উপরে বাপের ছায়া নেইদাদা আর চাচাও দুনিয়া থেকে চলে গেলেন। যখন তাকে নবুওতের তাঁজ পরানো হলোজিম্মাদারি দেয়া হলোতো তখন তিনি দাওয়াত দিচ্ছেনআমি যে এই দাওয়াত দিচ্ছিএটাই আমার রাস্তা।

আপনি বলে দিনএটা আমার রাস্তা। মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকি বাছিরাতের সাথেআমি ও আমার অনুসারীরাও। কাকে বলা হচ্ছেযাকে রহমাতুল্লিল আলামিন করে পাঠানো হয়েছেযাকে পুরো মানবতার জন্য নবী করে পাঠানো হয়েছে। তার জবান দিয়ে বলানো হচ্ছে যেআপনি বলে দেনএটাই আমার রাস্তামানুষকে ইমানের দাওয়াত দেয়া।

আল্লাহর প্রত্যেক বান্দাবান্দিআল্লাহ থেকে লেনেওয়ালা হয়ে যায়। আল্লাহর আজমতকেআল্লাহর বড়ত্বকেআল্লাহর জাত ও সিফাতের উপর ঈমান বানাতে বানাতে আল্লাহর খাজানা থেকে নেয়ার রাস্তা তৈরী করআর এটাকে নিজের জীবনের অবলম্বন বানিয়ে নাও। তারপর দেখ নিজের চোখে।

এক এক জন বান্দাকে দাওয়াত দেয়াএক এক জনকে বুঝানোআর সবাই এই এক্বীনের সাথেযেমন স্বয়ং হুযুর (সাঃ) এরশাদ করেনআমার উদাহরণ আর আমার সাথে যে হেদায়েত এসেছে তার উদাহরণ পানির মতবৃষ্টির পানির মত। সারা বিশ্বে যত টেকনোলজি আছেআর যে যত লাইনে উন্নতি করছেযাকে তারা উন্নতি বলছে। কিন্তু সারা বিশ্বে একজন ব্যক্তি এটা বলুক যে পানি ছাড়া চলতে পারেযার পানির প্রয়োজন হবে না। প্রকৃতপক্ষে এটা হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর পয়গাম। কেয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ আসবে সবার উদ্দেশ্যে বলা হচ্ছেযে যেখানেই থাকুকযে পোস্ট ও পজিশনেই থাকুকযেমন তোমার পানি ছাড়া কোন উপায় নেইতেমনি আমার অনুসরণ ছাড়া আমার পথে চলা ব্যতীতআমার কাজকে কাজ না বানিয়েআমার চিন্তাকে চিন্তা বানানো ছাড়া না তোমার দুনিয়া তুমি বানাতে পারবেনা তোমার আখেরাত বানাতে পারবে।

এই জন্য শুধু চিল্লাতিন চিল্লাসালদো সাল কোন কথা নয়। এই এক্বীনের সাথেযেমন হযরত হালিমা (রাঃ) নিয়েছিলেনআমরাও এখান থেকে দাওয়াত নিয়ে যাবোদাওয়াতের তাকাজার উপর জীবন দিয়ে দিব। এই এক্বীনের সাথে যেআমার ঘরের সুঁই সুতার প্রয়োজন থেকে শুরু করে আমার জান্নাতে প্রবেশ করাআমার জাহান্নাম থেকে বাঁচাআর শুধু আমিই নইআমার বিবি বাচ্চাখান্দানআমার গোত্রপুরা দুনিয়ার এক এক জন মানুষপৃথিবীর যে কোন প্রান্তেরপূর্বের বা পশ্চিমেরআদম (আঃ) এর বেটা আর হাওয়ার বেটিযে কোন মানুষতার দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতার ছামানশুধু এবং শুধুমাত্র মুহাম্মাদ (সাঃ) ওয়ালা দ্বীনমুহাম্মাদ (সাঃ) ওয়ালা শরীয়তমুহাম্মাদ (সাঃ) ওয়ালা সুন্নাত। আর সুন্নাতের মধ্যে বড় সুন্নাতপ্রথম সুন্নতআযীম সুন্নতআর সমস্ত সুন্নতের মাযেমন মায়ের থেকে বাচ্চা আসার সিলসিলা চলেমহা সুন্নত। যেদিন হুযুর (সাঃ) কে নবুওতের তাজ পড়ানো হল,ঐ দিন সবার প্রথম তিনি ঈমানের দাওয়াত দিয়েছেন। এটা সমস্ত সুন্নতের মা।

আমরা সবাই এটাকে আমার কাজ বানাবোএই এক্বীনের সাথে যেশুধু আমার নয় বরং পুরো পৃথিবীর সমস্ত মানুষের বনারসম্মানের মুকুট পরিধানেরবার মাস শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকারহেফাজতেরবরকতেররহমতেরনিশ্চিন্ততারসাহায্যেরনুসরতের বৃষ্টি বর্ষণ হবে হুযুর (সাঃ) এর সুন্নতের উপর চলার দ্বারা । আল্লাহ তায়ালা বৃষ্টির মত বর্ষণ করবেন। এই এক্বীনের সাথে এই পুরা মজমাকে এই কাজ নিয়ে চলতে হবে। এর জন্য নিয়ত করি এর জন্য এরাদা করি এর জন্য নিজের জান ও মালকে খরচ করি।

হযরত হালিমা সাদিয়া রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহা হুযুর (সাঃ) এর জাত কে নিয়ে গিয়েছিলেন। আর হুযুর (সাঃ) কোন ব্যক্তিতার আপাদমস্তকতার বাহিরতার ভিতরতার মাথা,মাথার চুলপায়ের নখ মেবারকতার চোখ-কানশিরা-ধমনীতার চেহারা মোবারককন্ঠজিহবাএক একটি অঙ্গ সরাসরি রহমত। হযরত হালিমা (রাঃ) হুযুর (সাঃ) এর শরীর মোবারককে নিয়ে গেছেনতাতেই কত বরকতকত রহমতকত মদদ! এই সব হুযুর (সাঃ) এর জাতকে নিয়ে যাওয়ার কারণে। তাই এই এস্তেমাহুযুর (সাঃ) এর কাজকে কাজ বানানোহুযুর (সাঃ) এর চিন্তাকে চিন্তা বানানো। সমস্ত মদদসমস্ত হেফাজতসমস্ত শান্তি শৃঙ্খলা হুযুর (সাঃ) এর কথার সাথে এবং হুযুর (সাঃ) এর কাজের সাথে।

যখন আমাদের প্রত্যেক ব্যক্তিআমাদের ব্যবসায়িআমাদের মজদুরআমাদের চাকরিজীবীআমাদের কারখানাওয়ালাআমাদের ধনী-গরীবশিক্ষিত-অশিক্ষিত সবাই হুজুর (সাঃ) এর কথাকে নিয়ে চলবেসর্ব প্রথম নিজের ঘরে হুজুর (সাঃ) এর অনুকরণের মধ্য দিয়েহযরত ইসমাঈল (আঃ) কে আল্লাহ তায়ালা ঘরওয়ালার জন্য নবী করে পাঠিয়েছিলেন। যে ব্যক্তি নিজ ঘরে মুহাম্মাদ (সাঃ) এর মেহনতকে চালাবে সে যেন ইসমাঈলী নূরকে লাভ করবে মুহাম্মদী মোহরের সাথে।

যে ব্যক্তি নিজের শহরকে মুহাম্মাদ (সাঃ) ওয়ালী মেহনতের ময়দান বানাবেকিছু নবীকে একটা শহরের জন্য পাঠানো হয়েছিলযে তার পুরা শহরকেপ্রত্যেক গলিপ্রত্যেক মহল্লা,প্রত্যেক ঘরপ্রত্যেক ব্যক্তিকে নিজের মেহনতের ময়দান বানাবেতাকে আল্লাহ তাআলা শোয়েবী নূর দান করবেন মুহাম্মদী মোহরের সাথে।

আর যে ব্যক্তি পুরা দেশকে নিজের মেহনতের ময়দান বানাবেঅনেক নবীকে আল্লাহ তাআলা একটা পুরা দেশের নবী করে পাঠিয়েছিলেন। যেমন হযরত মূসা ও হারুন (আঃ) এবং অন্যান্য আরো যারা আম্বিয়ায়ে বনী ইসরাঈল এসেছেনযে ব্যক্তি পুরা দেশকে নিজের মেহনতের ময়দান বানাবেদেশের একেকটা বিভাগবিভাগের প্রত্যেকটা জেলাজেলার প্রতিটা থানাথানার প্রতিটি ইউনিয়ন ইউনিয়নের মধ্যে যত গ্রাম আছেগ্রামের কোন মহল্লাকোন ঘরকোন মানুষ এই মেহনত থেকে দূরে না থাকেযে ব্যক্তি এভাবে নিজের মেহনতের ময়দান বানাবেআল্লাহ তাকে মূসায়ী নূর দান করবেন মোহাম্মাদী মোহরের সাথে।

যে নিজের কওমনিজের এলাকাকে মেহনতের ময়দান বানাবেআল্লাহ তাআলা হযরত নূহ আলাইহিস সালামকে তার কওমের কাছেই নবী হিসেবে পাঠিয়েছিলেনযে তার কওমকে নিজের মেহনতের ময়দান বানাবেআর মুহাম্মাদী দাওয়াতকে চালাবেঈমানের দাওয়াত দেয়া হলোতালীমের হালকাআল্লাহর জিকিরখুশু খুযু ওয়ালা নামাযপ্রত্যেকে প্রত্যেকের হককে জানে ও তা আদায় করেআর একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্য না থাকেযে এর জন্যে মেহনত করল নিজ কওমের মধ্যেআল্লাহ তাআলা তাকে নূহয়ী নূর দান করবেন মোহাম্মাদী মোহরের সাথে।

কিন্তু আমরা না মূসা (আঃ) এর উম্মতনা নূহ (আঃ) এর উম্মতনা হযরত শুয়াইব (আঃ) এর উম্মত। আমরা তো আলমী নবীর উম্মত। শুরু করব নিজের জাত থেকেঘর থেকেগলি থেকেমসজিদ থেকে। এজন্যই তো বলা হয়কাজ কাজকাজকাজ। আরে কাজ শুধু কথা বাড়ানোর নাম নয়কাজ শুধু কথা বলার দ্বারা হয় না বরং প্রত্যেকে নিজের মসজিদের উমুমি গাস্ত করেপ্রত্যেকে নিজের মসজিদের ২য় গাস্ত করেপ্রত্যেক ব্যক্তি মাসে ৩ দিন সময় দেয়আর ভাই ৩ দিন এই ভাবে নয় যেমসজিদে গিয়ে বিছানায় পড়ে গেলাম আর মুসল্লিরা এসে ডেকে তুলল- ও জামাতওয়ালারা ওঠনামাজের সময় হয়ে গেছে। প্রতিদিনের দুই গাস্তদুই তালীমমসজিদে একটা আর নিজ ঘরে একটারোজানা মাশোয়ারা আর প্রত্যেক মসজিদে পাঁচ কাজ আর এই আড়াই ঘন্টার মেহনত তো বাচ্চাকে মক্তবে পাঠানোর মত। এই চারমাস লাগাওচিল্লা দাও৩ দিনে যাওতালীমে এসোমাশোয়ারাতে বস,জিকির করে নাওকুরআনের পারা পড়ে নাওএসব বাচ্চাকে যেমন নাকি মক্তবে পাঠানো। ঐ পর্যন্ত বাচ্চা উ-হুআ-হাআমি আজ যাবো নাআজ ভালো লাগছে না এই সব করে। আর তাকে বুঝানো হয়আহা তোমাকে চকলেট দেয়া হবে, তো তাকে চকলেটের বড় প্যাকেট দেখিয়ে পাঠানো হয়। এইসব মেহনত তো এই চকলেট দেখানো কথার মত।

আল্লাহ করুকআল্লাহ করুকআল্লাহ করুক। এই মেহনতের স্বাদ একবার আস্বাদন কর। জীবন বিলিয়ে দেয়া হবে আল্লাহর রাস্তায়জীবন বাজি লাগছেআর ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছেফুযতু ওয়া রাব্বিল কাবা। কাবার রবের কসমআমি সফলকাম হয়ে গেছি। হযরত হারাম বিন মুলহাম (রাঃ) কে কাফের বর্শা মারলআর এমনভাবে মারল যে ওপার দিয়ে বের হয়ে গেল। জীবনের শেষ নিঃশ্বাসআর নিজের চোখে নিজের মৃত্যুকে দেখছেন আর কছম খেয়ে বলছেনকাবার রবের কছমআমি কামিয়াব হয়ে গেছি। যিনি এই জীবন দিয়েছিলেনতার জন্যেই তা বিলিয়ে দিলাম।

এই জন্য মাওলানা ইউসুফ সাহেব (রহঃ) বলেছেনদায়ীর হায়াত ইসলামের হায়াত। দায়ীর মওতসেটাও ইসলামের হায়াত। তো বর্শা মারার পরে সাহাবীর কথা শুনে ঐ কাফির হতবাক হয়ে গেল। এ মারা গেলবিবি তো এর বিধবা হলোবাচ্চা এর এতীম হলোরক্ত এর প্রবাহিত হলআর কছম খেয়ে বলছেসে কামিয়াব হয়েছে! জ্বী হা! যিনি এই জীবন দিয়েছিলেনযিনি ঈমান দিয়েছিলেনযিনি মুহাম্মাদ (সাঃ) এর কালেমা পড়িয়েছিলেনযিনি সৃষ্টি করেছিলেনযিনি এই মেহনতের জিম্মাদারি দিয়েছিলএই জিম্মাদারি পুরা করতে করতে মৃত্যুবরণ করাএটাই হলো চুড়ান্ত কামিয়াবী।

আর তুমি কিসের পিছনে পড়ে আছমাটির টুকরার পিছনে দৌড়াচ্ছোপজিশন আর যোগ্যতা বানানোর পিছনে লেগে আছোএটা কোন সফলতা নয়। বরং যে কাজের জন্য তুমি দুনিয়াতে এসেছোসেই কাজ করতে করতে দুনিয়া থেকে যাওয়াএটাই হলো সফলতার মুকুট। যখন ঐ কাফের এটা শুনলতো সে বললআচ্ছাএর নাম তাহলে কামিয়াবি!

এভাবে দাওয়াত দিলের মধ্যে পৌঁছে যায়। এই জন্য দাওয়াত শুধু কথার নাম নয়। বরং এটা ক্ষয়ক্ষতি বরদাস্ত করার নামএটা মোজাহাদার কাজএখানে আগে চলতে চলতে বিভিন্ন অবস্থা আসে।

তো ঐ বাচ্চাকে তার মা আমিনার কোল থেকে দুধ পান করাতে নিয়ে গেলদুধের ব্যবস্থা হয়ে গেল। লালন পালন হচ্ছেএক সময় বড় হয়ে গেলনবুওতের মুকুট পড়ানো হলতারপর হল হিজরতের হুকুম।

চারদিকে শোরগোল শুরু হয়েছে। ঘরে ঘরে হুজুর (সাঃ) এর বিরুদ্ধে স্কীম তৈরী হচ্ছে। মিটিং হচ্ছেমাশোয়ারা হচ্ছেবড় বড় পুরস্কারের ঘোষণা হচেছ। আর তখন কেমন অবস্থা ছিল?প্রখর রৌদ্রমরুময় প্রান্তরকাঁটাময় পথ। এখনকার মত নয় যেচল ফাইভস্টার হোটেলেওখানে গিয়ে আরাম আয়েশ করি। থ্রিস্টার হোটেল নয়। আল্লাহুম্মা লা আয়েশা ইল্লা আয়েশাল আখেরাহ।... তোমাদের নবী তোমাদেরকে সবক দিয়ে গেছে। হে আল্লাহ! আয়েশ তো হল জান্নাতের আয়েশ। আল্লাহর রাস্তার মুহাজিরগণের হালতবিছানাগাট্টি বোচকা নিয়ে চলছেমাটিতে ঘুমাচ্ছেঠান্ডা গরম সহ্য করছেওদিকে বিবি-বাচ্চার মাসলাআর এদিকে এরা অনাবাদি এলাকায় যাচ্ছে। মক্তব না থাকলে মক্তব কায়েম করছে। মসজিদ নাই তো মসজিদ বানাচ্ছে। আযান নাই তো আযান জিন্দা হচ্ছেনামাজ জামাতের সাথে হচ্ছে। ওইদিকে জামাতের পর জামাত বের হচ্ছে। তোমার তো রাস্তা এটা। এটাই তোমার রাস্তা।

এই কাজকে আমরা কাজ বানিয়ে নেই। আমি তো বললামআমরা এখনও স্বাদ পাইনি। স্বাদ পেয়েছি ভাল বাড়িরভাল গাড়ির। আল্লাহ করুকআল্লাহ করুকআমাদের রুচির পরিবর্তন হোক। জ্বরগ্রস্ত ব্যক্তি কেমন! জ্বর হলে মুখে সবকিছু তিতা লাগে। তাকে যদি মিষ্টি চা দেয়া হয় তবে সে বলবেভাই, কত কালের শত্রতার প্রতিশোধ নিচ্ছেনএত তিতা?আরে না ভাইতিন চামচ চিনি দিয়েছি। তেমনি আপনি তো বড় ইবাদতগুজারবড় তাহাজ্জুদগুজারকিন্তু চা তো তিতা লাগে। না ভাই চা তো বড়ই মিষ্টি। আর যখন জ্বর ভাল হয়ে যাবেযখন জিহ্বার রুচিস্বাদ বদলাবে তো এই তিতা চাকেই মধু বলবেভাই চা দিয়েছেন নাকি শরবতআল্লাহ করুক আমদের দিলের রুচি বদলে যাক।

এই জন্যেই হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) বলে গেছেনশুনে রাখোও ব্যবসায়ীমজুরধনী গরীবআম-খাসবুড়ো-যুবকপুরুষ-নারীসবাই শুনে রাখো। প্রত্যেকের সিনার ভিতরে একটা গোস্তের টুকরা আছে। যখন সেটা ভাল থাকেতখন পুরো শরীর ভাল থাকে। যখন ঐ গোস্ত বিগড়ে যায়পুরো শরীর বিগড়ে যায়। চোখের দেখাকানের শোনাকদম উঠানোদিমাগ দিয়ে চিন্তা করা সব বিগড়ে যায়নষ্ট হয়ে যায়। আর গোস্ত বনলে শরীর বনে যায়। কিন্তু এটা সুন্দর পোশাক পরিচ্ছদ পরার দ্বারা বনে না। বরং এটা তালীমের হালকায় বনে। এটা ঈমানের দাওয়াত নিয়ে চলাঠান্ডা গরমে জ্বলামানুষের বাঁকা কথা বলামানুষের কঠোরতাএগুলো বরদাস্ত করার দ্বারা এটা বনে। যখন এটা বনবে ঈমানওয়ালাদিল ঈমানওয়ালা,চোখ ঈমানওয়ালাকান ঈমানওয়ালাচলাফেরা ঈমানওয়ালাকামাই রোজগার ঈমানীনামজ ঈমানীহজ্ব ঈমানী। রুচি বদলে গেছে। যার এখন চিল্লা তিতা লাগছে৩ চিল্লা তিতা লাগছেঠান্ডা গরম সহ্য করা তিতা লাগছেপায়দল চলা তিতা লাগছে। নিজের তাকাজাকে দাবিয়ে দ্বীনের তাকাজা পুরা করা তিতা লাগছেএরই যখন রুচি বদলে যাবে তো সেই তখন বলবেওহহোকী হলো। অনেক দেরী হয়ে গেলমেহেরবানী আল্লাহরআমার তো চল্লিশ বছর হয়ে গেলষাট হয়ে গেলবাহাত্তর হয়ে গেলআমি তো এখনো কাজ-ই বুঝলাম না। তিতাকে মিষ্টি আর মিষ্টিকে তিতা মনে করে এসেছি।

এই জন্য বলা হচ্ছেশুধু চিল্লা ৩ চিল্লা উদ্দেশ্য নয়। মেহনতের রোখ সহীহ হয়ে যায়দীলের রোখ সহীহ হয়ে যায়। মাওলানা ইলিয়াস সাহেব (রহঃ) বলতেনপ্রত্যেক উম্মতে মোহাম্মদীর দীলের রোখ মাখলুক থেকে খালিকের দিকেদুনিয়া ভরা ছামান থেকে নবুওতী আমলের দিকেআর দুনিয়ার রং-রুপচাকচিক্য থেকে আখিরাতের সুখজান্নাতের নেয়ামতের দিকে হয়ে যায়। এই জন্য আমাদের হযরতজীহযরতজী এনামুল হাসান (রহঃ) বলতেনযেমন মানুষ লিখেছে ইসলাম একটা আমলি মাযহাব। এটাকে দর্শন বানিয়ো না। এই ইসলাম এটা প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে এর হাকীকতসহ এসে যায় এর জন্য চেষ্টাএর জন্য দাওয়াত। এটাকে ফিলোসফী বানিয়ো না।

প্রত্যেকে তার চিল্লা৩ চিল্লা৩ দিনতালিমগাস্তআর নিজের কামাই রোজগারসবকিছুর মধ্যে শরীয়তকেসুন্নতকে নিয়ে আসে।

তো বলছিলামহযরত হালিমা (রা:) হুজুর (স:) এর জাতকে নিয়েছিলেন। যার পা থেকে মাথা পর্যন্ত বরকত আর বরকতরহমত আর রহমতনূরে নূরানীয়াত। প্রতিটি কথা প্রতিটি আচরণ। এই জন্য বড় হযতর হযরত মাওলানা ইলিয়াস সাহেব (র:) বলতেনএই মেহনতের আসল মাকসাদমুহাম্মাদ (স:) যা কিছু নিয়ে এসেছিলেন তা পুরোপুরি ভাবে সমস্ত উম্মতের মধ্যে তার হাকিকত সহ জিন্দা হয়ে যায়। যার বুনিয়াদ ঐ কালেমাযাকে উম্মত ভুলে গেছে। আরেআমাদের এখানেতো এই কথা প্রসিদ্ধ যেভাই যেখান থেকে ভুলে গেছো সেখান থেকে আবার শুরু কর। এক লোক কিছু গুণছে। টাকার নোট বা অন্য কিছু। একদুইবিশপঞ্চাশষাটসত্তরতারপর ভুলে গেল। ভাই এখন কি করিকেনযেখানে ভুলে গেছ সেখান থেকে শুরু করো। এই উম্মতের সব জানা আছে। নিজের মেহনত ভুলে গেছেনিজের কালেমার দাওয়াত ভুলে গেছে। নিজের নামাযকে নবীর নামাযের সাথে মিলানো ভুলে গেছে। নিজেকে নবুওতের রঙ্গে রঙ্গীন করা আর নবুওতের নূরে নূরানী বানানো ভুলে গেছে। এই মেহনতের মাধ্যমে উম্মতের ভুলে যাওয়া সবক পুনরায় স্মরণ করতে হবে। আবার,ঈমানের দাওয়াত দাও। খুশু খুযু ওয়ালা নামায শিখ।

এই জন্য হায়াতুস সাহাবাতে আছেযাকেই কালেমা পড়ানো হততাকে সর্বপ্রথম নামাজ শিখানো হতো। কালেমা শেখোনামাজ শেখোকালেমা শেখোনামাজ শেখো। দুনিয়া যে যাই বলে বলুক। আমাদের এই দুই জিনিস।

কারণ যদি হযরত হালিমা (রাঃ) হুজুর (সাঃ) এর জাত কে নিয়ে যানতো হুজুর (সাঃ) এর ঐ সমস্ত বিষয় যা তিনি করিয়েছেন। আর তিনি তো চুলে চিরুনী করার তরীকাও বলে গেছেন। আবার মসজিদে চিরুনী করাকে নিষেধ করেছেন। হুজুর (সাঃ) চোখে সুরমা লাগানোর তরিকা বলে দিয়েছেন। কত দিনের মধ্যে দাড়ি পরিষ্কার করতে হবে তাও বলেছেন। গোসল কিভাবে করতে হবেওযু কিভাবে করবেকি বলতে হবে আর কি না বলবেসব।

যে ব্যক্তি এইটা দাবী করে সেআমি আল্লাহকে আল্লাহ মানিযে এটা দাবী করে যে আখেরাত সত্য তার জন্য করণীয় হল যখন বলবে তো ভাল কথা বলবে। আর ভাল কথা কি?সবচেয়ে ভাল কথা ঈমান। সবচেয়ে ভাল কথা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহলা ইলাহা ইল্লাল্লাহলা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। কেউ কিছু নয়, এক একক জাত আল্লাহ।

নিজের ভাইয়ের সাথে কথা বলোভাস্তের সাথেবোনের সাথেবিবির সাথেবেটির সাথেমায়ের সাথেখালার সাথেদাদীর সাথেনানীর সাথে। ঘরে বাইরেঅলিতে গলিতে,দোকানেঅফিসেকারখানায়যা বলবে তো ভাল বলো। এইটা হল ভুলে যাওয়া সবক। এই উম্মতকে আবার তা স্মরণ করতে হবে। 

যেমনি ঐ মেলা থেকে হযরত হালিমা (রাঃ) হুজুর (সাঃ) এর জাতকে নিয়ে গেছেনতেমনি এই এস্তেমা থেকেও প্রতিটা ব্যক্তিকে হুজুর (সাঃ) এর কথাকেহুজুর (সাঃ) এর আচার-আচরণকেহুজুর (সাঃ) এর সুন্নাতকেহুজুর (সাঃ) এর কুরআনকেহুজুর (সাঃ) এর নামাজকেহুজুর (সাঃ) এর খুশু খুজুকেহুজুর (সাঃ) এর বিনয় ও দাসত্বকেহুজুর (সাঃ) এর সবর ও শোকরকেসবকিছু নিয়ে যেতে হবে।

আর এই কথাও মনে রাখবোএইসব নিয়ে যখন যাবতো চলতে চলতে বিভিন্ন হালাত আসবেসংকট আসবে। যেমন এসেছিল মক্কায়। মিটিং হচ্ছে। হিজরতের সময় শত্ররা পিছু নিতে নিতে গুহার মুখে এসে পৌঁছল। আর হুজুর (সাঃ) আপন সাথীকে বলছেনভয় করনাচিন্তা করনাআল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। এই দাওয়াতের রাস্তায় চলনেওয়ালা বিভিন্ন অবস্থার সম্মুখীন হবে।

নবুওতের মেহনতের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা এসেছে নবী (আঃ) গণের উপর। এরপর যে যত বেশি নবীর রঙ্গে রঙ্গীন হবেযে যত নবীর ফিকিরকে ফিকির বানাবেযে যত নবীর নিকটবর্তী হবে তার উপর ঐরকম হালাত আসবে। কিন্তুপরিণতিতে তুমি সুসংবাদই প্রাপ্ত হবে।

তো আমি আরজ করেছিযে এই নবী ওয়ালা কাজকে নিয়ে যাবেআমাকে তো আমার ঘর ঠিক করতে হবেআমার বিবিকে নামাযী বানাতে হবেবাচ্চাকে মক্তবে পাঠাতে হবে,মাদ্রাসায় পাঠাতে হবে। এই সব কাজ করবে তো ইসমাঈলী নূর পাবে মোহাম্মদী মোহরের সাথে।

আরা যে ব্যক্তি পুরা দেশকে নিজের মেহনতের ময়দান বানাবেঅনেক নবীকে আল্লাহতাআলা একটা পুরা দেশের নবী করে পাঠিয়েছিলেন। যেমন হযরত মূসা ও হারুন (আঃ) এবং অন্যান্য আরো যারা আম্বিয়ায়ে বনী ইসরাইল এসেছেনযে ব্যক্তি পুরা দেশকে নিজের মেহনতের ময়দান বানাবেদেশের একেকটা বিভাগবিভাগের প্রত্যেকটা জেলাজেলার প্রতিটা থানাথানার প্রতিটি ইউনিয়নইউনিয়নের মধ্যে যত গ্রাম আছেগ্রামের কোন মহল্লাকোন ঘরকোন মানুষ এই মেহনত থেকে দূরে না থাকে। যে ব্যক্তি এভাবে নিজের মেহনতের ময়দান বানাবেআল্লাহ তাকে মূসায়ী নূর দান করবেন মোহাম্মদী মোহরের সাথে।

যে নিজের কওমনিজের এলাকাকে মেহনতের ময়দান বানাবেআল্লাহ তাআলা হযরত নূহ আলাইহিস সালামকে তার কওমের কাছেই নবী হিসেবে পাঠিয়েছিলেনযে তার কওমকে নিজের মেহনতের ময়দান বানাবেআর মুহাম্মদী দাওয়াতকে চালাবেঈমানের দাওয়াত দেয়া হলোতালীমের হালকাআল্লাহর জিকিরখুশু খুয ওয়ালা নামাযপ্রত্যেকে প্রত্যেকের হককে জানে ও তা আদায় করেআর একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্য না থাকেযে এর জন্যে মেহনত করল নিজ কওমের মধ্যেআল্লাহ তাআলা তাকে নূহয়ী নূর দান করবেন মোহাম্মদী মোহরের সাথে।

কিন্তু আমরা তো না মূসা (আঃ) এর উম্মতনা নূহ (আঃ) এর উম্মত। না কোন পূর্ববর্তী নবীর উম্মত। আমরা তো পুরা আলমের আলমী নবীর উম্মত। আমরা পুরা বিশ্বের নিয়্যত করব। এই জন্য মাওলানা ইলিয়াস (রহঃ) বলতেননিজের মসজিদে গাস্ত করো তো পুরা বিশ্বের নিয়্যত করো। নিয়্যত করা তো আমাদের জিম্মায়। আর নামাজ কায়েম করে দেয়া আল্লাহর জিম্মায়। নিয়্যত করো যেআমরা হুজুর (সাঃ) এর কথার উপর হুজুর (সাঃ) এর কাজ কে নিয়ে যাব।

আর হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ) হুজুর (সাঃ) এর মেহমানদারী করেছিলেন। এই সম্মান পৃথিবীর আর কেউ পেতে পারবে না। আর কেউ হুজুর (সাঃ) এর মেজবান হতে পারবে না। তবে হ্যাহুজুর (সাঃ) তার মেহমানদারীর বিষয় তার উটনীর উপর ছেড়ে দিয়েছিলেন যেউটনী যেখানে বসে পড়বে সেখানেই তিনি মেহমান হবেন। এই ঢাকার এস্তেমাএই বাংলাদেশের এস্তেমাএটা হুজুর (সাঃ) এর রুহানী উটনী স্বরুপ।

ওহে বাংলাদেশ বাসী! ও বাইরের মেহমান! আপনারা এই এস্তেমা কে হুজুর (সাঃ) এর রুহানী উটনী মনে করে এর একরামএর এহতেরামএর জন্যে লালায়িতআগ্রহান্বিতযেমন মদীনাতে উটনী চলছিল তো সবার দিলে আকাঙ্খা ছিল এটা আমার এখানে বসে পড়ঠিক তেমনি পূর্ব-পুশ্চমউত্তর দক্ষিণ সবাই এই আশা করে যেআকাবিরগণ আমাদের দেশে আসুকএখানে এই এস্তেমা হোক।

যদি এর না-কদরী হয়অবমূল্যায়ন হয়মনে রেখোপ্রত্যেক বস্তুর দুটি রূপ থাকে। নেগেটিভ পজেটিভ। যদি এই এস্তেমাকে খেলা বানাওতামাশা বানাওএটাকে অর্থ সম্পদ জমানোর মাধ্যম বানাওনিজের ক্ষমতা পদমর্যাদাপোস্ট পজিশননিজের হীন স্বার্থ চরিতার্থ আর দুই পয়সা কামাইয়ের রাস্তা বানাওতাহলে এর চেয়ে বড় দুর্ভাগা আর হতভাগা কেউ হবে না।

আর যদি একে নবী (সাঃ) এর রুহানিয়াত লাভের উপায় মনে করেজান নিজের লাগালোমাল নিজের লাগালোআল্লাহর মাখলুকের নিকট থেকে প্রয়োজনে করয নিলআগত মেহমানদের একরাম করলোতাদেরকে দ্বীন শেখালোতাদের সাথে ভালো দোভাষী দিয়ে দিলআর মেহমানরাও সব নিজেদের খরচ করলোতো এটা হবে সেই রুহানী এস্তেমাযা ঐ আইয়ুব পয়দা করবেযার ভিতরে এই জজবা থাকবে যেআমি যদি আল্লাহর রাস্তায় চলতে গিয়ে পথেই মারা যাই তবে সেখানেই আমাকে দাফন করবে না। যখন কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহ জিজ্ঞাসা করবেন আইয়ুব কি নিয়ে এসেছোতো বলতে পারবোযখন মদীনায় ছিলামতখন হুজুর (সাঃ) এর কথাতার তালীমতার জাতহুজুর (সাঃ) এর মেহমানদারী। কিন্তু যখন হুজুর (সাঃ) এর মেহনতের তাকাজা আসলবার্ধক্য আর অসুস্থতার অপারগতাআর লোকজন কুরআন হাদীস শুনিয়ে বুঝাচ্ছে যেন আমি না বের হই। আরহালকা-ভারী সর্বাবস্থায় আল্লাহর রাস্তায় বাহির হও এই আয়াতের কারণে আমি ঘরে থাকতে পারিনি। আমি তো তোমার রাস্তায় চলেছিতোমার রাস্তায় মরেছিআর মৃত্যুর পরে আমার লাশও তোমার রাস্তায় চলেছে।

মেরে ভাইয়ো দোস্ত আজিজো আওর বুজুর্গো!
আমার আপনার আকীদা হযরত মুহাম্মাদ (সা:) এর পরে দুনিয়াতে কোন নবী আসবে না। মুহাম্মাদ (সা:) বলে দিয়ে গেছেনআমার পরে বড় বড় ফিৎনা হবে। ত্রিশজন দাজ্জাল হবে। এক হল ঐ দাজ্জালমানুষ নবুওতের দাবী করবে। যখনি হুজুরে পাক (সা:) এর ওফাত হয়ে গেল মুসাইলামা কাজ্জাব নবী হওয়ার দাবী করে বসল। একটা মেয়ে লোকসেও নবী হওয়ার দাবী করল। ফিৎনা হবে। যেমন আজ দুনিয়ার মানুষ বলছেহায় ফিৎনা! হায় ফিৎনা! হায় ফিৎনা! শুনে রাখোএই একীনের সাথে মেহনত করতে হবেনিজেকে এতে খাটাতে হবে যেপ্রত্যেক ফিৎনার চিকিৎসা হল মুহাম্মাদ (সা:) ওয়ালী মেহনত ও দাওয়াত।

হুজুর (সাঃ) এই কাজ কিভাবে শুরু করেছিলেনতৌহিদরিসালাত আর আখেরাত। এই তিন বুনিয়াদি একীন বয়ান করেছেনমক্কা মুকাররমার তের বছরের জিন্দেগীতে। ঈমানের হাকীকত হাছিলের রাস্তায় হালাত আসবে।
পড়ো জীবনী হযরত আবু জর গিফারী (রা) এর। আর পড়ো সীরাত হযরত বেলাল (রা) এর। পড়ো আবু বকরওমরউসমান আর আলীকে। পড়ো ঐ সমস্ত সাহাবিয়া (রা: আনহা) কে। আর পড়ো তাদের কোলের বাচ্চাদের। প্রত্যেক জায়গায় তিনটি বুনিয়াদ। আল্লাহ একহযরত মুহাম্মাদ (সা:) আল্লাহর সত্য রাসূল এবং যে যত লাফালাফি করোউচ্ছৃঙ্খলতা করোনাচানাচি এবং বাড়াবাড়ি করোমরতে হবেমরতে হবেমরতে হবে। মৃত্যুর পরে দ্বিতীয় বার আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে। তৌহিদ রিসালাত আর আখেরাত।

মক্কা বাসীরা ঈমান আনলোনা। এরা আল্লাহর উপর ঈমান আনল না। মুহাম্মাদ (সাঃ) কে আল্লাহর সত্য নবী হিসাবে মানলোনা। তার হুকুমতার তালীমআর অনুগত্যতার অনুসরণ,তিনিই যে দুনিয়া আখেরাতে রহমত স্বরুপএই কথাকে মানত না। তেমনি মানতনা যে মৃত্যুর পরে আবার উঠতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
তুমি কি এই মনে করে আছো নাকি যেখেয়ে দেয়ে ফুর্তি করলাম। তারপর মরে গেলাম আর মাটির সাথে মিশে গেলাম?

আপনি বলে দিনতারা এতরুপ বলে যেআমি আবার উঠাতে পারবো না।
নাআমার রবের কসম খেয়ে বলছি। যা যা করে এসেছো। এক এক করে তা তোমাদের সামনে আসবে।
প্রত্যেকের আমলনামা মালা বানিয়ে গলায় ঝুলিয়ে দেয়া হবে।

মক্কা মুকাররমার সমস্ত মোজাহাদাসমস্ত কষ্ট ক্লেশকাঁটা বিছানো হচ্ছেকোথাও পাগল বলা হচ্ছে। থুথু দেয়া হচ্ছে। কোথাও গলায় ফাঁস লাগানো হচ্ছে। কোথাও জাদুকর ও কবি বলা হচ্ছে। হুজুরকেহুজুরের অনুসারীদেরকেজ্বলন্ত কয়লার মধ্যেউত্তপ্ত বালির উপরেতিন তিন শিফট করে বেলালকে উমাইয়া বিন খলফদুর্ভাগাবড় ব্যবসায়ী ছিল। বড় কারবার ছিলপ্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আমদানি আসত শাম দেশ থেকে। কসম খেয়েছিল যেওর পুরো জানপুরো মালপুরো শক্তিবুদ্ধিসমস্ত মালের পাইপাই দিয়ে পুরো জিন্দেগী ব্যয় করবে মুহাম্মদের বিরুদ্ধেতার দাওয়াতের বাঁধা দেয়ার পথেতার কথাতার কাজতার আমলতার এলেমতার মেহনতে বাধা দেয়ার পথে ব্যয় করবে।

সে হযরত বেলাল (রা) কে কিনেছিল। সে বললকিতুমি নবীর মতে মত দাওনবীর দাওয়াতকে গ্রহণ করেছতুমি বল যে আমার তো ভাগ্য খুলে গেছেতো শুরু হলো নির্যাতন। সূর্য ওঠা থেকে নিয়ে সূর্য গরম হওয়া পর্যন্তশরীরের তেল ঝরা পর্যন্ত। ঐ শিফটে যত লোক ছিল সবার কাজ ছিলবেলালকে কাঁটা ও সুঁই দিয়ে কষ্ট দেয়া। শিফট বদলে গেল। দ্বিতীয় শিফট ওয়ালা আসল। তার কাজ ছিল বেলালকে বস্ত্রহীন করে উত্তপ্ত বালুর উপর শুইয়ে দিয়ে টানা হেচড়া করা তৃতীয় শিফট আসা পর্যন্ত। আর তৃতীয় শিফট শুরু হতো সূর্যাস্তের পর। তাদের কাজ ছিল সারা রাত চাবুক মারা। মারতে থাকাপিঠে লাগেকমরে লাগেডানে লাগেবামে লাগে। এই দুর্ভাগ্য কেন?

তোমরা বিভিন্ন শ্রেণী থেকে এসেছ। প্রত্যেকের মেহনত ভিন্ন ভিন্ন। তোমাদের বাছাই  করা হয়েছে। এ অমুকসে অমুকএ এই সে ঐ। প্রত্যেকের মেহনত আলাদা আলাদা। গাস্ত করব,তালীম করবনামাজ পড়বঈমানের দাওয়াত দেবমানুষের কটুক্তিচড়া কড়া কথাকে বরদাস্ত করব। আমি তার জন্য এই রাস্তাকে সহজ করে দেবো। মিথ্যাধোকাজুলুম,কঠোরতানাপাক ইচ্ছানাপাক পরিকল্পনানাপাক স্কীমআল্লাহর বান্দাদের দিয়ে পশুত্বের কাজ করিয়ে নেয়াএর জন্যও যা পারো করো। আমি রাস্তা সহজ করে দেবো। কিন্তু মরতে হবেমরতে হবে। সামনে সবার হাশর অপেক্ষা করছে।

তৌহিদআল্লাহ এক। তার হাতেই সমস্ত কুদরত। মুহাম্মাদ (সা:) আল্লাহর সত্য নবী। তার আনুগত্যের মধ্যেই দুনিয়া আখিরাতের সুখ শান্তি। আর এই জীবন মাত্র কয়েক দিন। তারপর মরতে হবে আর এই জীবনের হিসাব দিতে হবে। তৌহিদরিসালাত ও আখিরাত।

তের বছরের এই সমস্ত মোজাহাদাএই সমস্ত কষ্ট ক্লেশ। এই তিন বুনিয়াদি একীনকে হাকীকতের সাথে দিলে বসানোর জন্য এতসব মোজাহাদা হয়েছে। মেহনতের তরীকা শেখানো হয়েছে। কালেমা শেখো। কালেমা তখন পূর্ন হবেযখন লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ হবে। কালেমা শেখোনিজের আখিরাতকে সামনে রাখো। কেউ দেখুক না দেখুক। কেউ জানুক না জানুক। কারো খবর হোক না হোক। আল্লাহ সর্বশ্রতাসামি। সর্বদ্রষ্টাবাছীর। সর্ব জ্ঞানীলিম। আর তিনি হালীম। তার হেলেমেরধৈর্য্যরে কি কোন তুলনা হয়?আর তার ফেরেস্তারা! তারা আল্লাহর তাসবীহ পড়ে। সুবহানসুবহানাকা ওয়া বিহামদিকা। আল্লাহ তুমিই সব কিছু করো। সব কিছু তুমিই করেছো। জমীনকে তুমি ধ্বসিয়ে ছিলে। জাতি সমূহকে তুমি ধ্বংস করেছ। ফেরাউনকে তুমিই ডুবিয়ে মেরেছো। কারুনকে ধ্বসিয়েছো। কিছরা ও কায়ছারকে পরাজিত করেছো।  তোমার কি প্রশংসা করব! কি প্রশংসা করব তোমার ধৈর্য্যের?

তিনি সব জানেন। কে কি বলল। কে কি করল। কে কার হক মারলো। কে জুলুম করলোকে ইজ্জতের উপর আঘাত করলকে বাবা-মাকে কাঁদালোকে বিবি বাচ্চার সাথে কি করলো,সব জানেন।

কি বলবো আল্লাহ তোমার ক্ষমার কথা! কত বড় বড় পাপীকেকত বড় বড় অপরাধীকেকেমন সব গুনাহগারকে মাফ করে থাকো। এই জন্য আমরা হযরত রাসূলে পাক (সা:) এর নিকট থেকে সবচেয়ে বড় পুরস্কার যেটা পেয়েছিকাজ করতে হবেকাজ করতে হবে তাওহীদরিসালাতআখিরাতের বুনিয়াদকে বানিয়ে। জান নিজেরমাল নিজেরএই রাস্তার মোজাহাদা আর সমস্যাকেকষ্ট ক্লেশকে সহ্য করেআর প্রত্যেকের হক আদায় করাসবর করাপ্রত্যেককে এর জন্য তৈরী করাপ্রত্যেককে আল্লাহর রাস্তার নকল হরকতকে বুঝানো।

লেগে থাকোচলতে থাকো। এই জন্য এনামুল হাসান সাহেব (রহ:) বলতেনআরে আমাদের এই মেহনত তো খুব সহজ। খুব সহজ। কেনকারন  এখানে যা কিছু নেয়ার তা শুধু আখেরাতে আল্লাহর নিকট থেকেই নেয়া হবে। আল্লাহ কেপ্রত্যেক বস্তুর ভান্ডারখাজানা আছে তার কাছে। নিয়ে নাও তোমার বন্দেগীর জন্য। তো উনি বলতেনকাজ তো বড় সহজ। আখেরাতের প্রতি নজর থাকবে।

তবে হ্যাঁ যখন সমস্যা সৃষ্টি হয়যখন কোন মাছলা চলে আসেআর কাজ করনে ওয়ালা আপোষে ঝগড়া শুরু করে দেয়। যখন নফছ আর নফসানিয়াতআগ্রাসনদুনিয়ার তলব,স্বার্থপরতাযখন এই সব চলে আসে তখন কাজ আর কাজ থাকে না। সব এখানেই উসুল করারজমা করার ফিকিরে পড়ে যায়।

মেরে ভাইয়োদোস্তআযীজো আওর বুযুর্গো!
আর এই কথা আমি প্রথমেও বলেছি যেনবুওতের মধ্যে আর ফিলোসফির মধ্যে পার্থক্যনবী যা চায় এবং যা কিছু উম্মতের  মধ্যে দেখতে চায়। সর্ব প্রথম  আমলী নমুনা হল নবী। যেরকম নামায নবী উম্মতের মধ্যে দেখতে চানঐ রকম নামায নবী নিজে পড়ে দেখিয়েছেন। যে ঈমানের দাওয়াত নবী দিচ্ছেন ঐ ঈমানের  নমুনা নবী পেশ করেছেন। আর যে আখেরাতের খবর প্রত্যেককে দিচ্ছেননিজের ব্যাপারে বলেছেনকি বলেছেনজিবরাঈল (আ:) তাশরীফ নিয়ে আসছেন। হুজুর নিজের চাচাতো ভাই ফজল ইবনে আব্বাস (রা:) কে বলছেনফজললোকদেরকে মসজিদে জমা কর। লোকজন জমা হল। তারপর তিনি বললেন, হে লোক সকল! আমার দুনিয়া থেকে চলে যাবার সময় হয়ে গেছে। যদি তোমাদের কারো কোন হক আমার কাছে থাকে তবে সে এখানেই তা নিয়ে নাও। আখেরাতের মাছলা খুব কঠিন। তখন কোন লোক এই কথা বলে নাই যেআরে তাকে তো আমরা  কিছু বলতেই পারি না। সে তো আমাদেরকে কিছু বলতেই দেয় না। না এই কথা হুজুর  (সা:) এর ব্যাপারে ছিলনা হুজুরের কোন খলিফার ব্যাপারে ছিল।

হযরত ওমর (রা:) মিম্বরে ছিলেন। তিনি বললেনশোন এবং মান্য করো।  এক সাহাবী দাঁড়িয়ে গেলেন। শুনব না। মানব না। ভাই কি হয়েছেকেন শুনবে না। কেন মানবে না?সবার ভাগে একটা চাদরআর আপনার কাছে দুই চাদরএখানে কি কেউ কিছু জিজ্ঞেস করতে পারেপুলিশের লোকও তো কিছু বলতে পারে না। তোমার বেতন তো মাত্র এত। এই মসজিদ কোত্থেকেএই অট্টালিকা কিভাবেকেউ জিজ্ঞেস করতে পারে?

হায় হায়! এই দাওয়াত! যখন দাওয়াতকে দাওয়াতের তরীকায় করবো। আল্লাহতায়ালা আমাদের আকাবীরদের কবরকে নূরে ভরে দিন। পুরো জীবনের  ইতিহাসকুরআনহাদীস ও সুন্নতের আলোকে। যে ধরনযে তরীকাযে উসূলযে কোরবানীযে এখলাছযে একাগ্রতা আর আখেরাতকে সামনে রেখেআল্লাহর কালেমা বুলন্দ হয়ে যায়মুহাম্মাদ (স:) এর প্রতিটা আচার ব্যবহারআর প্রতিটা সুন্নত প্রত্যেক ঘরে পৌঁছে যায়। এটাকে সামনে রেখে মেহনতের আদব ও তরীকা মত করা। তারা এমন ছিলেন যেকারো প্রতি আঙ্গুল উঠানোর প্রয়োজন ছিল না। দাওয়াত তো এমন হবে। যদি দাওয়াত এভাবে না হয় তবে এই দাওয়াতের দ্বারা তরবীয়ত কিভাবে হবে!

এই ওমর (রা:) তো সেই ওমর। তার মেজাজ কেমন ছিলমক্কার যে কোন গলি দিয়ে যেত তো খবর হয়ে যেত। আর  এই কথা তো প্রসিদ্ধ ছিল যেওমর মক্কার শয়তানদের মধ্যে একটা শয়তান। এমন কি একজন বুড়ি হিযরত করে যাচ্ছিলরাস্তায় ওমর এর সাথে দেখা হলো। কোথায় যাচ্ছকি করবতুমি তো আমাদের কাজ করতে দাও না। আমাদের প্রতিটা পদে পদে শুধু বাঁধা দাও। কেন কি হলআমি তো চলে যাচ্ছি। আল্লাহ তোমাকে সাহায্য করুক। ওমরকে দোয়া দিল। পুরো মক্কায় খবর ছড়িয়ে গেল। আজকের তাজা খবর। লোক যেমন বলে নাসবাই অবাক। ওমরকে দোয়া দিয়েছে। ওমর বলছেশোন! তোমাকে যদি কেউ এসে বলে যেওমরের বাপ খাত্তাব মুসলমান হয়ে গেছেতবে তার কথা বিশ্বাস করবে। কিন্তু আমার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে যাও। আমি তো মুসলমান হবো না। যার এই অবস্থাদাওয়াতের দ্বারা তার কেমন পরিবর্তন হলো! দাওয়াত ব্যবহারে পরিবর্তন আনেপশুকে মানুষে পরিণত করে। কিন্তু দাওয়াতের মত দাওয়াত হতে হবে।

এই জন্য মওলানা ইলিয়াস সাহেব (রহ:) বলতেনদাওয়াতে যত আমল আছেসেগুলোতে আজও ইয়াকীন এবং পুরো জীবনের পরিবর্তনের শক্তি তেমনি আছেযেমন মুহাম্মাদ (সা) এর জামানাতে ছিল। আর তিনি উদাহরণ দিয়েছেনযেমন লেবু নবীর জামানায় পানিতে মেশালে পানি টক হয়ে যেত। পনের বছর হয়ে গেল। ঐ লেবুর তাছীর আল্লাহ তায়ালা আজও বাকী রেখেছেন। সে কোন রিক্সাওয়ালাকে ছাড়েনি। স্টেশনের কুলিকে ছাড়েনি। কোন প্রফেসরকে ছাড়েনি। আল্লাহওয়ালাকে ছাড়েনি। কাউকেই ছাড়েনি। সবার কাছে লেবুর একই তাছীর। যদি লেবুর তাছীরপ্রভাব পরিবর্তন না হয়তবে মুহাম্মাদ (সা) এর জামানার ঈমানের দাওয়াতের তাছীরতালীমের হালকার তাছীরজিকিরের হালকার তাছীরআল্লাহ নামের জিকিরের তাছীর একটুও বদলায়নি। এটা দাওয়াতের আমল। হ্যাঁলেবু কাউকে ছাড়ে না। কিন্তু ঘরে তো লেবু থাকতে হবে। খুব সুন্দর কলাখুব সুন্দর ফল। খুব সুন্দর আনার। ছেলে বাবাকে বলছেবাবা আমি এটা নেইবাবা বলছে এটা তো তুমি খেতে পারবে না। এই সবের স্বাদ তো একই রকম। এগুলো প্লাস্টিকের। একজন দশজন নয়হাজার নয়লক্ষ নয়কোটি নয়সারা বাংলাদেশ মিলে চেষ্টা করলেও এক ফোঁটা রসও বের করতে পারবে না। কারণ রস তো এতে নেই। এটা তো শুধু দেখার জন্য।

আল্লাহ কসম দাওয়াত এখনো তার তাছীরের সাথে আছে। দাওয়াতের আমলসমূহ এখনো তার তাছীরের সাথে আছে। যখন মানুষ একিন কে পরিবর্তন করবেআল্লাহর ভয়কে পয়দা করবেতার আজমত দিলে বসাবে।

এ তো সেই ওমরযে তার বোনকে কেমন পিটালো! কিন্তু দাওয়াত তার তাছীরকে প্রকাশ করে। বলা হয় ঘরের তালীমঘরের তালীমএটা ঐ তালীমের তাছীর। এ তো সেই ওমর,হাতে এখনও তলোয়ার আছে। দুচোখে আক্রোশ। পুরস্কার তো আমিই নিব। কিন্তু  দাওয়াত তার তাছীর প্রকাশ করে। এক ঝটকায় সব বদলে ফেলে। এসেছিল জীবন নিতেএখন নিজের জীবনকে এসে পেশ করছে- আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ।

এ জন্য দাওয়াত যখন মুজাহাদার সাথে হবে। কোরবানীর সাথে হবে। যখন দাওয়াত সব রকমের বিদ্বেষ আগ্রাসন থেকে মুক্ত হয়ে যে কোন ব্যক্তি যে কোন সময়েযে কোন জায়গায় এই মেহনতকে করবে। আজ নয়আল্লাহতায়ালা কেয়ামত পর্যন্ত এর আছর রেখেছেন।

ঐ ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলএই দুই চাদরএটা কিভাবে পেলেনসবাই তো একটা পেয়েছে। হয়রত ওমর (রা:) রেগে যাননি। বেয়াদব! মজমার ভিতরে এই ধরনের কথা বলেসবার সামনে। তাকে কিছুই বলা হল না। হযরত মাওলানা ইলিয়াস সাহেব (রহ:) এই কথা খুব বলতেন। আমাদের এই কাজ হুজুর পাক (সা:) এর সীরাত অনুযায়ীসাহাবা (রা:) দের সীরাত অনুযায়ী হবে। তখন এর তাছীর  থাকবেসৌন্দর্য থাকবে। মেহনতে তরক্কী হবে। কাজ করনেওয়ালাদের আল্লাহর সাথে সম্পর্ক হবে।

হযরত ওমর (রা:) বড়ই লজ্জার সাথে বললেনমজমায় কি আব্দুল্লাহ আছোআমার ছেলেকে ডাকোজ্বী আব্বাআমি আছি। আরে ইনি যেটা বলছেনতার উত্তর দাও। বাপও আছে। ছেলেও আছে। দরবারে-রেসালাত থেকে সবারই তরবীয়ত হয়েছে। দাওয়াতের মধ্যে তরবীয়ত আছে। আল্লাহ তায়ালা হুজুর (স:) এর কবরকে নূরে ভরে দিন। দাওয়াতের পুরো তরীকাউসূলআদাব বয়ান করে গেছেন।

জ্বী আব্বা? আরে এর কথার জওয়াব দাও। শাহেবজাদা বলতে পারতোআরে কোথাকার কে এই লোকবের হও এখান থেকে। তুই  এই বলেছিসএই বলেছিসআব্বার ব্যাপারে তাহকীক করছিসআব্বার সামনেই তাহকীক করিসকে এই লোকবের করে দাও একে এখান থেকে। তুই এই কথা বললিনা। বরং হযরত আব্দুল্লাহ (রা:) বললেন হা ভাই কথার তো যুক্তি আছে। আর তোমার প্রশ্ন করার হক আছে।  আসলে ব্যাপার হলো এইআমীরুল মোমেনীন এর ভাগেও একটাই চাদর এসেছিল। এই উপরের যে চাদরটা এটা তো আমার ভাগের। আমি তাকে দিয়ে দিয়েছি। ঐ লোক আবার দাঁড়িয়ে গেল। বললএখন বলেন! আমরা শুনবও মাকবও। তাদের তবীয়তের মধ্যে হিংসা আর বিদ্বেষ ছিল না। প্রকৃত অবস্থা সামনে এসে গেছে তো মেনে নাও। না আমি মানতে পারবো নাএই রকম ছিলনা। এই তবীয়তের রাস্তা ছিল মুহাম্মাদ (সা:) এর। যিনি বুনিয়াদ তৈরী করেছিলেন তৌহিদ,রিসালাত,আর আখেরাতের।

হযরত মুহাম্মাদ (সা:) মসজিদে তাশরীফ নিয়ে এসেছেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) মসজিদে লোকদের সমবেত করলেন। হুজুর (সা:) মিম্বরে উঠে এই কথা বললেনলোক সকল! আমার এখন তোমাদের থেকে বিদায় নেয়ার সময় খুবই নিকটবর্তী। কারো যদি কোন হক আমার উপর থেকে থাকে সে আমার থেকে তা নিয়ে নাও। কেননা হুজুর (সা:) নিজেই বলছিলেন সাহাবাদেরকেবলতো নিঃস্ব কেসাহাবারা বললেন যার কাছে টাকা পয়সা কিছুই নেই সেই নিঃস্ব। তারপর হুজুর (সা:) নিজেই উত্তর দিলেননাএত তাবলীগএত নামাযএত রোজাএত কুরআনএত জিকিরএত তাছবীহএত তালীমএত উমরাএত হজ্ব সব নিয়ে যাবে। একে চড় দিয়েছিলেএকে গালি দিয়েছিলেওলামায়ে কেরামকে আল্লাহ তায়ালা জাযায়ে খায়ের দান করেন। প্রশ্ন এলএ তো চড় দেয়নি বরং অমুক এর দ্বারা চড় মারিয়ে নিয়েছিল। ওলামায়ে কেরাম বলেনপ্রকৃত অপরাধী ঐ ব্যক্তিযার হুকুমে এ চড় মেরেছে। একে আখেরাতে জবাব দিতে হবে।

তো হুজুর (সা:) এই কথা বললেন। কারো কোন হক আছে কিনা। এক সাহাবী দাঁড়িয়ে গেলেন। হে আল্লাহর রাসূল! অমুক সময় আমার নিকট থেকে খেজুর নিয়ে অমুককে দিয়েছিলেন। হুজুর (সা:) বললেনহ্যা ভাই ফজলতাকে খেজুর দিয়ে দাও। তারপর বললেন আর কেউ আছে কোন হকদারএকজন সাহাবী দাঁড়ালেন, রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন। ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনি আমাকে একদিন পিঠে চড় মেরেছিলেন। হুজুর (সা:) বললেন তাহলে তুমি এখন এর প্রতিশোধ নিয়ে নাও। ঐ সাহাবী বললেনআপনি যখন আমাকে মেরেছিলেন তখন আমার গায়ে কাপড় ছিল না। আর আপনি তো এখন চাদর পরে আছেন।

কে এই কথা বলছেকাকে বলছেদাওয়াত তখন দাওয়াত হবে। ঈমান তখন ঈমান হবে। আল্লাহর সাথে সম্পর্ক তখন হবে। আখেরাত তখন বনবে। যখন মুহাম্মাদ (সা:) এর পুঙ্খানুপুঙ্খ পদানুসরণ করবো। হুজুর (সা:) এর আনুগত্য করবো।

নাও ভাইবদলা নিয়ে নাও। আমিও চাদর খুলে নিলাম। তারপর ঐ সাহাবী এগিয়ে আসেন। আর ঐ সাহাবী বড় বুদ্ধিমান ছিলেন। যেমন হযরত সালমান ফারসী (রা:) এসেছিলেন। অনেক পাদ্রীর কাছে থেকে তারপর এসেছেন। যখন শেষ পাদ্রীর কাছে ছিলেনতো জিজ্ঞেস করেছিলেন সালমান ফারসী (রা:)আপনি মারা গেলে তারপর কার কাছে যাববললেন,ঐ নবী যার আগমনের সুসংবাদ প্রত্যেক নবী দিয়ে গেছেন। ঐ নবীর আসার সময় হয়ে গেছে। আর উনি আরবে আসবেন। সালমান (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন তার কিছু আলামত বলেন,কিভাবে চিনবপাদ্রী বললেন৩ টি আলামত হবে। সদকা খাবে নাহাদিয়া গ্রহণ করবে। আর তার পিঠে কবুতরের ডিমের মত মোহরে নবুওত থাকবে।

আর এটা মনে রেখোযে যত বেশী খারাপের মধ্যে থাকযে যত নোংরামীর মধ্যেই থাক না কেনযে যত ঈমানের বিপরীত কার্যকলাপে লিপ্ত থাকযে যত অনর্থক ও বেহুদা কাজের মধ্যে থাককিন্তু যখন হকের তলবে লেগে যায়সত্যের পিপাসায় কাতর হয়আল্লাহ তার পিপাসাকে দূর করে দেয়থলেকে ভরে দেয়। সালমান এসেছেএক কাফেলা পেয়ে গেল। এখানে যেমন কত কাফেলা এসেছে। কি ভাই তোমরা কোথায় যাবেবাংলাদেশে যাব। কেনসেখানে কোন মেলা বসেনি। সেখান থেকে চিল্লায় বের হব। সেখানে তো পুরো জিন্দেগীর পরিবর্তন হবে। সেখানে তো শানদার নামাজের জন্য যাবো। সেখানে তো নয়ন ভরা জল হাসিলের জন্য যাচ্ছি। ভাই তাহলে সেখানে আমিও যাবো। আমিও নবীওয়ালা কাজ শিখতে যাবো। আমি সবার কাজ করেছিশুধু নবীর কাজই করিনি। তো সালমান তাদের জিজ্ঞেস করল। তারা বলল ভাই আমরা তো আরবে যাচ্ছি। সালমান তার পথ-সম্বল যা ছিল,ওদেরকে দিয়ে বলল আমিও আরবে যাবোআমাকে নিয়ে চলো। অর্ধেক রাস্তা যাওয়ার পর তারা সালমানকে বিক্রি করে দিলো। মদীনার ইহুদীরা কিনে নিল। আর দিনে ১২ ঘন্টা ১৬ ঘন্টা খাটিয়ে নিতো। ঐ বাগানে পানি দিতে হবে। ঐ বাগানে ফল পেকেছে। সেটা পারতে হবে। একদিন তিনি গাছে উঠেছেন খেজুর পারতে। নিচে বাগানের মালিক ছিলো। তার চাচাতো ভাই এসে বলছেসর্বনাশ হোককেন কি হলআরে এক লোক এসেছেসে বলছেসে নাকি আল্লাহর রাসূল। ওদিকে গাছ থেকে সালমান এটা শুনে নেমে এসেছে। মনে মনে খুশিতে বলছেআরে তুই ঠিক জায়গাতেই এসে  পৌঁছেছিস। বাগানের মালিককে সালমান বললআমাকে কিছু সময়ের জন্য ছুটি দেন। তারা বললনাকোন ছুটি নেই। কাজ কর। পরে অবসর বের করে সালমান গেল রাসূল (সাঃ) এর দরবারে। কিছু খেজুর নিয়ে গেল। গিয়ে বললআমি একজন মুসাফির। আপনার জন্য ছদকা এনেছি। এগুলো নিন। রাসূল (সাঃ) বললেনভাই আল্লাহ তোমর উপর রহম করুন। আমরা তো ছদকার মাল খাই না। একটা আলামত প্রমাণ হয়ে গেল। এবার সালমান বললএই খেজুর গুলো আপনার জন্য হাদিয়া। রাসূল (সাঃ) বললেনতুমি মুসাফিরভাল মানুষ বলেই তো মনে হচ্ছে।  হাদিয়া গ্রহণ করতে আমাদের কোন আপত্তি নেই। দ্বিতীয় আলামতও পেয়ে গেলেন। এবার তৃতীয় আলামত নবুওতের মোহর। এটা কিভাবে দেখবেন?

মনে রেখোযখন কেউ আল্লাহর জন্য কুরবানি করেমোজাহাদা করেতখন আল্লাহ পাক তার গায়েবি নেজামকে চালু করেন। সবাই বসে আছে সামনে। সালমান গিয়ে বসল পেছনে। আল্লাহর গায়েবি নেজাম শুরু হয়ে গেল। চাদর সরে গেলআর মোহরে নবুওত চোখে পড়ল। সাথে সাথে তিনি কালেমা পড়ে নিলেন। আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহওয়া আশহাদু আন্নাকা রাসুলুল্লাহ।

এই লোক তো নতুন। নাজানি কোত্থেকে এসেছে। একে কিছু জিজ্ঞেস করো না। এর রায় নিও না। নাএই রকম কথা কেউ বললেন না। বরং খন্দকের যুদ্ধে ফেরেস্তাদের অবতরণ। কাফেরদের মোকাবেলায় আল্লাহর গায়েবী সাহায্য। এই পুরো যুদ্ধের নায়ক ছিলেন এই সালমান (রা:)। যুদ্ধের বুনিয়াদ ছিলেন। অথচ তার দেশ ভিন্ন ছিলভাষা ভিন্ন ছিল। কিন্তু সেখানে আসাবিয়াতেরসাম্প্রদায়িকতা বা স্বজনপ্রীতির নাম ও নিশানাই ছিল না। বরং বললেন সালমান আমাদের পরিবারভুক্ত।

সীরাতের আলোকেতাদের জীবনাদর্শ থেকে এই কাজ করতে হবে। বদরযুদ্ধওহুদখন্দকতবুক সব যুদ্ধে রাসূল (সাঃ) সাহাবীদের সাথে ছিলেন। সবাই একটা পাথর বেঁধেছেন তো তিনি দুইটা বেঁধেছেন।

বদলা নাও। আসো আমার পিঠে চড় মারো। ঐ সাহাবী এসে ঐ মোহরে নবুওতে চুমু খেলেন। সেখান থেকে ফারেগ হয়ে ঐ রাতে রাসূল (সাঃ) তার বিবিগণের নিকট তাশরীফ নিয়ে গেলেন। বললেনতোমাদের থেকে আমার পৃথক হওয়ার সময় খুব ঘনিয়ে এসেছে। যার যে হক আমার উপর আছেসে তা নিয়ে নাও।

এটা হল তাদের জীবনএই রকম তাদের জীবন। যে যত বেশি পুরানাযে যত জিম্মাদারযে যত বড়তার আখেরাতের ফিকির তত বেশি হবে। সবচেয়ে বড় আমাদের সর্দার,মদীনার চাঁদ রাসূলে কারীম (সাঃ)। এই জন্য তাকে বলা হচ্ছেতুমি আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি জাননেওয়ালা এবং সবচেয়ে বেশি ভয় করনেওয়ালাও।

দাওয়াত তার আছর ঠিকই প্রকাশ করে থাকে। হুজুর (সাঃ) আবু জেহেলের ঘরে দাওয়াত নিয়ে যেতেন। সূর্যের কিরণ যেমন কতশত বস্তুর উপর গিয়ে পড়ে। মুহাম্মাদ (সাঃ) ও তার সাহাবীদের কিরণ আবু জেহেলের ঘরে গিয়ে প্রবেশ করলআর একরামা (রাঃ) এর উপর গিয়ে পড়ল। তো দাওয়াত তার তাছীর দেখাবেই। যেকলিজা চিবানে ওয়ালী হেদায়েত পেয়ে গেল।

আর হিন্দা তখনও ইতমিনান হতে পারেনি। এমনকি যখন হিন্দা আসল। পুরো মক্কায় খুঁজছে। কোথায় গেলসে তো কাবায়তেলাওয়াত করছে। মাকামে ইবরাহীমীতে নামাজ পড়ছে। দোয়া করছে আর কান্নাকাটি করছে। ও বুঝতে পেরেছি। সে তো আমাদেরকেই বদ দুআ করছে বুঝি। একটু গিয়ে লুকিয়ে শুনি তার বদ দুআ। তারপর যখন আসলো,অন্ধকার হয়ে গেছে। অন্ধকারে লুকিয়ে শুনছেন। আল্লাহ তুমি মক্কার প্রতিটা মানুষকে হেদায়েত দাও। আচ্ছাএর অন্তরে এত দরদএত প্রশস্ততা! কলিজা চাকনেওয়ালীরাযিয়াল্লাহু আনহা হতে যাচ্ছে। নাক-কান কেটে মালা বানিয়ে যে গলায় পড়তোসেই হিন্দা রাযিয়াল্লাহু আনহা হচ্ছে।

দাওয়াত নিজের তাছীর না দেখিয়ে থাকতে পারে না।  যদি দাওয়াত ছহীহ উসূলের সাথেসঠিক পদ্ধতিতেআকাবিরদের বাতলানো তরীকায়দাওয়াত কুরবানির সাথে এবং শুধু এবং শুধুমাত্র আল্লাহর রেজামন্দির সাথে হয়।

এখন আমার ভাইয়ো দোস্ত আযিযো আর বুযুর্গো !
আজকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আল্লাহ তাআলা মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত বানিয়েছেন। এর মধ্যে পশুত্বফেরেসতাসুলভ ব্যবহারমনুষ্যত্বশয়তানী সব দিয়েছেন। এ যদি জানোয়ার হতে চায়হিং¯্র হতে চায়বিষাক্ত সাপও হতে পারেঅথবা বিচ্ছুও হতে পারে। সোজা একটা মানুষ চিড়েফাঁড়েতার রক্ত প্রবাহিত করে দেয়এমন কুত্তাএমন চিতা,আর শকুনও হতে পারে।

আর যদি এই মানুষ আল্লাহর আনুগত্য করতে করতেনিজেকে ফেরেস্তার মত বানাতে চায়কারো সাথে কোন লেনদেন নাইআমার তো আল্লাহর ইবাদত করতে হবেতাকে মানতে হবে। ফেরেস্তার মত সিফাতকে অর্জন করতে চায় তো করতে পারবে। এ যদি আল্লাহর রঙ্গে রঙ্গীন হতে চায়আল্লাহর খলীফাআল্লাহর গুণে গুণান্বিত হতে যদি চায় এবং সমস্ত নবীদের সর্দার মুহাম্মাদ (সাঃ) এর নায়েব হিসেবে এক এক জন মানুষের জন্য দরদ নিয়েমুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রতিটি উম্মতকে মহব্বত করতে করতেযদি সে নবীওয়ালা রঙ্গে রঙ্গীন হতে চায়,হতে পারবে। মেহনতের চারটি নিসবত। এই চার নিসবতের যে কোন লাইনে সে মেহনত করবে সে এটাই বনবে। এ যদি পশুত্বকে অর্জন করে তবে সে মানুষের মহল্লায় বসবাসরত একটা ছাগল। মানুষের শহরের একটা নেকড়েএকটা চিতা। এ একটা বিষাক্ত বিচ্ছু মানুষের ছদ্ধবেশে। এর এই পুশুত্বকে বর্জন করে ফেরেস্তার সিফাত হাসিলের জন্য এই রোজা,নামাজঈমানের সাথে পশুত্বকে দমন করতে থাকবেআল্লাহর রাস্তার নকল হরকতের সাথে। যখন তাকাজা আসবেজান হাজিরমাল হাজিরজজবা হাজিরকারো সাথে কোন লেনদেন নাই।

প্রত্যেকের জন্য কোমলতাপ্রত্যেকের জন্য উত্তম জজবা আর নবীওয়ালী দুউম্মতের দরদ। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেনহুজুর (সাঃ) বলেছেনযে দুআ আমি সারা জীবনে তোমার জন্য একবার মাত্র করেছিঐ দোয়া তো আমি প্রত্যেক নামাযের পর আমার উম্মতের জন্য করি। মুহাম্মাদ (সা:) ওয়ালা চিন্তাএটা হাসিলের জন্য প্রত্যেককে মেহনত দেয়া হয়েছে। এই জন্যই এই এস্তেমা হচ্ছে। এখন আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে পশুত্ব থেকে বের হয়েফেরেস্তাদের সীফতকে অর্জন করেআল্লাহর রঙ্গে রঙ্গীন হয়ে,নবীর কাজকে কাজ বানিয়ে নবীর চিন্তাকে নিজের চিন্তা বানিয়েনবীর মত আখলাকের সাথেযার জিন্দেগীর যত দিন বাকী আছেকিন্তু আজকে আমাকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এই রকম সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সাহাবীদের জামাত মদীনাতে। এক জামাত ছিলযারা পুরা জান পুরা মালএক জামাত ছিল যারা আধা জানআধা মালআর সর্বশেষ স্তরে যারা ছিল তারা প্রত্যেক বছর চার মাস আল্লাহর রাস্তায় লাগাতো। আর যারা আসতো তাদের নুসরতখেদমতশেখাশেখানো এটা ছিল মুহাম্মদ (সা:) এর সাহাবীদের মেহনতের নকশা।

আমাদের আজকে আল্লাহর বান্দারাসূল (সা:) এর নায়েব বনার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এর জন্য আমার পশুত্বের তাকাজাকে কুরবানি করতে হবে। দমন করতে হবে। আর রাতের কান্নাকাটিআল্লাহর যিকিরকুরআনের তেলাওয়াতইনফিরাদী আমাল করতে করতে এই মেহনত করব। পুরা দুনিয়ার নিয়ত করতে হবে।

আল্লাহ আমাকেও কবুল করুক। তোমাদেরকেও কবুল করুক। আর হিম্মত করে বলোকে কে তৈরী আছো?
নিয়ত করে নাও। এই কাজকে কাজ বানাবো। নবীর কাজকে নিজের কাজ বানাবো। আল্লাহর রঙ্গে রঙ্গিন হবো। যেকোন হালতে অটল থাকবো। নিজেকে আল্লাহর খাঁটি বান্দা বানাবো। দেখ! কাল এ মজমা এখানে থাকবে না। আজকে রাতে যত কাঁদতে পারো। আল্লাহকে যত পারো রাজি করাতে। পুরা দুনিয়াতে হিদায়াতের ফয়সালা করিয়ে নিতে পারো।

অডিও

Popular posts from this blog

৫ ওয়াক্ত নামাজের পর এই দুয়া করলে আল্লাহতালা কিয়ামতের দিন সহায় হবেন, আর দুনিয়াতে নফসের খারাবি থেকে হেফাজত করবেন। এই দুয়াতে অনেক শেফা রয়েছে।

হযরত মাওলানা সা’দ সাহেব (দা.বা.) এর বয়ান