Nizamuddin

মুহতারাম,মাওলানা সাদ সাহেবের উস্তাদ নিযামুদ্দিন মারকাযের অর্ধশত বছরের মুকিম মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াকুব সাহেবের চিঠি
===========================================
৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷ বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম ।৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷ 
*দাওয়াতের সাথীদের উদ্দেশে কিছু কথা*

নিযামুদ্দিনে আমি প্রায় ১৫ বছর হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ সাহেব (রহ.) এর সঙ্গে থেকেছি। তার ইন্তেকালের পর প্রায় ৩০ বছর মাওলানা ইনআমুল হাসান সাহেব(রহ.)এর সঙ্গে থেকেছি। প্রায় ৫০ বছরের এই দীর্ঘ সময়ে তাদের দু’জনকে খুব কাছ থেকে দেখার ও দেশে-বিদেশে সঙ্গে থাকার সুযোগ মহান আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন।এ দু-হযরতের নির্দেশনা,পথপ্রদর্শন ও তত্ত্বাবধানে এই মহান ও উঁচু কাজ করার সৌভাগ্য আল্লাহ তাআলা আমাকে দিয়েছেন। তার আলোকে আমি এ কথা পূর্ণ ঈমানদারীর সঙ্গে নিবেদন করছি যে, তাবলীগের এই মেহনতকে উপর্যুক্ত হযরতগণ (রহ.) যে পদ্ধতির ওপর রেখে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে সরে গেছে এবং বিচ্যূত হয়েছে।
:
আমাদের এই দু’ মুরুব্বি যদিও সবার পূর্ণ সম্মতিতে ‘আমির’ মনোনীত হয়েছিলেন; কিন্তু তারা কখনই নেতৃত্বের দাবী তোলেননি।কখনো নির্দেশের সুরে কথা বলেননি।কখনো নিজ আমিত্ব জাহের করেননি। তারা সবসময় নিজেদেরকে মাশওয়ারার অনুগত রাখতেন। তারা যখনই কোনো বিষয় চালু করতে চেয়েছেন, সাথীদের সবার সম্মতি নিয়েই করেছেন। আমির হওয়া সত্ত্বেও তারা সবসময় নিজেকে মাশওয়ারার অনুগত রেখেছেন। কিন্তু এখন ওই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন নিজেকে আমির ঘোষণা করা হচ্ছে। কেউ কোনো কথা মানতে না চাইলে তাকে তা মানতে নানাভাবে বাধ্য করা হচ্ছে। যার ফলে এখন নিযামুদ্দিন মারকায এতোটাই বিশৃঙ্খল হয়ে গেছে যে, সেখানে গালি-গালাজ ও মারপিট পর্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
:
যেই নিযামুদ্দিন মারকায ছিলো উম্মতের ফিকির, নিজের ইসলাহ ও আখেরাত গুছানোর জায়গা, যে কেউ যেখানে এলে নিজের মাঝে উপর্যুক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো ধারণ করে নিয়ে যেত, আজ নিযামুদ্দিনে সেই পরিবেশ নেই। এখানে নিযামুদ্দিন মারকাযের সর্বত্র গীবত, কুধারণা ও অপবাদ আরোপের হিড়িক চলছে। যারা এই মেহনতকে সঠিক পদ্ধতির ওপর বহাল রাখতে চাচ্ছে, নিযামুদ্দিন মারকায তাদেরকে পরাজিত করার নিত্য-নতুন কৌশল তৈরির প্রজননকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এমন পরিবেশে এখন যারা আসছে, তাদের সংশোধন তো পরের কথা, তারা আরো অধপতনের শিকার হচ্ছে। যার ফলে কাজের স্প্রিট নিঃশেষ হয়ে গেছে। সেখানে আগতদের মস্তিষ্কে এ খোরাক দেওয়া হচ্ছে যে, ‘অনুসরণ করলেই নাজাত পাবে (অনুসরণের শর্তে যা ইচ্ছে করতে পারো, কোনো সমস্যা নেই) কিন্তু যদি অনুসরণ না করো, কোনো কথার বিরোধিতা করো তাহলে নাজাত পাবে না,চাই তুমি যতোই মুখলিস হও,যতোই কুরবানি দাও।’
:
নিযামুদ্দিন মারকাযের পরিবেশে পূর্বে যেই নিজের ইসলাহের ফিকির ছিলো, আখেরাত সাজানোর ফিকির ছিলো, দ্বীনের প্রতি হৃদয়ের ব্যাথা-বেদনা ও উম্মাহর প্রতি সহমর্মিতার যেই অন্তর্জ্বালা ছিলো, এখন তা নিঃশেষ হয়ে গেছে। তার স্থানে এখন নিজের মত চাপিয়ে দেওয়া, মনের খায়েশমত নির্দেশ করা, দুনিয়ার প্রতি লোভ ও আমিত্ব ফলানোর পরিবেশ গড়ে উঠেছে। আর এই স্বার্থোদ্ধারের জন্যই এখন ‘উমুমি বাইআত’ বা গণহারে বাইআত করানোর কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। অথচ হযরতজি (রহ.) কর্তৃক গঠিত শূরা সর্বসম্মতিক্রমে বাইআত করতে নিষেধ করেছিলেন। সেই লিখিত সিদ্ধান্তের ওপর হযরতজির শূরার সকল সদস্যের স্বাক্ষরও রয়েছে।
:
অতীতের দু-হযরতের আমলে যেইসব নতুন নতুন উদ্ভাবিত বিষয়গুলো ছিল না,এখন মাশওয়ারা ছাড়াই সেগুলো চালু করা হয়েছে।এর একটি হল, ‘দাওয়াত, তালীম ও ইসতিকবাল’। নতুন এই পরিভাষা চালু করা হয়েছে। যা আমাদের আকাবির রহ. এর যুগে ছিলো না। যদিও ইদানিং এই পরিভাষার নাম পরিবর্তন করে ‘তামীরে মসজিদ’ নামকরণ করা হয়েছে। কিন্তু কাজ আগেরটাই। এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিদিন ঘরে ঘরে গিয়ে মেহনত করা ও উমুমি গাশত করার গুরুত্ব পুরোপুরি লোপ পেয়েছে।
:
দ্বিতীয় বিষয় হল, খাওয়াস ও অন্যান্য পদমর্যাদার লোকদের মাঝে মেহনত করা থেকে নিষেধ করা হচ্ছে। অথচ এ কাজ পূর্বের উভয় হযরতের যুগ থেকেই হয়ে আসছে। দেখা যেতো, পরবর্তীকালে খাওয়াস ও অন্যান্য পদমার্যাদার লোকজন উমুমি মেহনতের সঙ্গে জুড়ে যেতেন। এর উপকারিতা সূর্যালোকের চেয়েও স্পষ্ট। এই তবকাতি মেহনত বন্ধ করার জন্যে, ‘তামীরে মাসজিদ’ এর নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্যে শরিয়তের বিভিন্ন নস (نص) এর অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
:
তৃতীয় বিষয় হল, মুনতাখাব হাদীস। মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ রহ. কখনো ইঙ্গিতেও এই কিতাব তালীম করার কথা বলেননি। এখন ধীরে ধীরে ‘ফাযায়েল আমাল’ উঠিয়ে দিয়ে তার স্থানে ‘মুনতাখাব’ চালু করার চেষ্টা চলছে।
:
চতুর্থ বিষয় হল, মাসতুরাতের পাঁচ কাজ। এভাবে প্রতিদিন নতুন নতুন ফেতনামূলক কথা ছড়িয়ে সাথীদের মানসিকতা নষ্ট করা হচ্ছে।
কেউ যদি এই বিষয়গুলোকে মানতে না চায়, কোনো এলাকায় যদি এ কাজগুলো চালু না হয় তখন বলা হচ্ছে, সেখানে নিযামুদ্দিনের তরতিব চলে না। অথচ এ কাজগুলো হচ্ছে, একক ব্যক্তি মৌলভি মুহাম্মদ সাদ সাল্লামাহুর একক সিদ্ধান্তে গৃহিত তরতিব।
:
এই নতুন পদক্ষেপগুলোর কবলে পড়ে নিযামুদ্দিন মারকাযের পূর্বের সবগুলো মজলিস ধ্বংস হয়ে গেছে। মারকাযের ওপর এমন একদল নতুন কর্মচারী দখল করে বসেছে, যারা আমাদের বড়দের সংশ্রবপ্রাপ্ত নয়। এরাই আগত লোকদের পেছনে লেগে যায় এবং তাদেরকে এ কথা বুঝানোর চেষ্টা করে যে, ‘প্রাদেশিক যিম্মাদারদের কথা শুনো না। কারণ তারা নিযামুদ্দিন মারকাযের তরতিব মানে না।’ জামাতগুলোকেও এই হিদায়াত দিয়ে পাঠানো হচ্ছে যে,এই নতুন তরতিব অনুসারে জামাত পরিচালিত করবে।’ এ কারণেই নিযামুদ্দিনে জামাত রওয়ানা হওয়ার পূর্ববর্তী হিদায়াতি বয়ান করার দায়িত্ব ও বিভিন্ন ইজতিমায় বয়ান করার দায়িত্ব এমন লোকদেরকেই দেওয়া হচ্ছে, যারা এই কথাগুলো বলবে।
:
এর ফলে এখন প্রতিটি প্রদেশে মতভেদ সৃষ্টি হচ্ছে। জনে জনে মতভেদ হচ্ছে। নতুন সাথীরা মনে করছে যে, পুরনো লোকেরা নিযামুদ্দিনের কথা মানে না। আর পুরনো সাথীরা বিপাকে পড়ছে যে, এই নতুন নতুন বিষয়গুলো কীভাবে চালু হচ্ছে? এগুলো কখনই শূরার চূড়ান্তকৃত সিদ্ধান্ত নয়; বরং এগুলোর কারণে তাবলীগের মেহনত মূল বুনিয়াদ থেকে বিচ্যূত হচ্ছে, কাজের রুখ বদলে যাচ্ছে। সব জায়গায় ইখতিলাফ, বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য চলছে। আখেরাতের ফিকির, দ্বীনের দরদ, উম্মাহর জন্যে অন্তর্জ্বালা এবং নিজের ইসলাহ ও তরবিয়তের গুরুত্ব হারাতে বসেছে; অথচ এগুলোই ছিলো এই মেহনতের প্রাণ।
:
মৌলভি সাদ সাল্লামাহু এখন এমন একদল আমলার পরিবেষ্টনে আছে, যারা বড়দের সংস্পর্শ পায়নি।যারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্যে তার প্রতিটি কথার প্রশংসা করছে। তারা তাকে এই আত্মশ্লাঘার পাত্র বানিয়ে রেখেছে যে,‘আপনি এই মেহনত যতটা গভীরভাবে বুঝতে পেরেছেন, পূর্ববর্তীরা ততোটা বোঝেনি এবং বর্তমান সময়ের সাথীদের মাঝেও তা বোঝার যোগ্যতা নেই।’
:
এই লোক যখন নিজের আবিস্কৃত নতুন বিষয়গুলো সম্পর্কে বয়ান করে তখন এ কথা বলে যে, ‘আমি তোমাদেরকে কুরআন, হাদীস ও সীরাতের আলোকে বোঝাচ্ছি। এবং এই মেহনতটিকে কুরআন, হাদীস ও সীরাতের ওপর নিয়ে আসতে চাচ্ছি।’ তার এ কথার অর্থ হলো, আমাদের আকাবির রহ. যেই কাজ করেছেন তা কুরআন, হাদীস ও সীরাত থেকে উদ্ভাবিত ছিলো না।
:
তিনি তার বয়ানের মাঝে অবলীলায় যে কারো ওপর আঙুল তুলছেন, সমালোচনা করছেন, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছেন, শাসক সুলভ নির্দেশ করছেন, ইজতিহাদ করছেন, নতুন নতুন ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছেন। তার এই কর্মকান্ডসমুহ সম্পূর্ণরূপে আমাদের আকাবির রহ. এর মানহাজের পরিপন্থী। প্রতিদিন কোনো না কোনো ফেতনামূলক কথা ছেড়ে দিচ্ছেন। যার ফলে উলামায়ে কেরাম ও বুযুর্গানে দ্বীন পেরেশান ও দুশ্চিন্তাগ্রস্থ যে, এ-সব কী হচ্ছে? 
:
যদি এ গতিতেই ছুটতে থাকে তাহলে সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন উলামায়ে কেরাম আমাদের বিরুদ্ধে চলে যাবেন এবং উম্মাহর দূরদর্শী শ্রেণিও এই কাজ থেকে সরে পড়বেন।
কাজের গুরুত্ব ও এর মানহাজ হিফাযত করার জন্যে বিগত ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে দুনিয়ার সকল পুরনো সাথীদের উপস্থিতিতে হযরতজি রহ. এর শূরার সদস্যপদ পূরণ করা হয়েছিলো। সেই মজলিসে আমিও উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু তাজ্জব লাগলো, মৌলভি সাদ সাল্লামাহু সেই সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তার অস্বীকৃতির কোনো কারণ আমি দেখি না।
:
দুনিয়ার কোনো ধর্মীয়, শিক্ষামূলক বা জাতীয় প্রতিষ্ঠান, উম্মাহর কোনো সামাজিক কাজ শূরার পৃষ্ঠপোষকতা, তত্ত্বাবধান ও পথপ্রদর্শন ব্যতিরেকে চলতে পারে না। অতীতেও চলেনি, আগামীতেও চলবে না। উম্মাহর এতো বড় কাজ কোনো এক ব্যক্তির হাতে যদি তুলে দেওয়া হয় আর সেই এক ব্যক্তি যদি এই উঁচু কাজ নিজের মর্জি মুতাবেক চালাতে শুরু করেন তাহলে মারাত্মক ও ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটবে। কারণ, কোনো ব্যক্তি নিজের মানবসুলভ দুর্বলতা ও প্রবৃত্তির প্রবঞ্চনার ঊর্ধ্বে নয়। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে,
وَمَا أُبَرِّىءُ نَفْسِي إِنَّ النَّفْسَ لأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ
‘আমি নিজেকে নির্দোষ বলি না। নিশ্চয় মানুষের মন মন্দ কর্মপ্রবণ’। [সূরা ইউসুফ : ৫৩]
:
সম্ভবত এ বিষয়টি সামনে রেখেই মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস সাহেব রহ. বলেছিলেন, ‘আগামীতে এই মেহনত একটি শূরার তত্ত্বাবধানে চলবে।’ (দেখুন, আখিরী মাকতুব, মাকাতিবে মাওলানা ইলিয়াস রহ.। লেখক, মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী রহ.)
:
আমি উপর্যুক্ত কথাগুলো লিখেছি মহান আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা ও হিসাব-নিকাশের ভয়ে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে বড়দের পদ্ধতিতে কাজ করে যাওয়ার এবং নিত্য নতুন বিষয় অনুপ্রবেশ করানো থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দিন। আমীন।

ওয়াস-সালাম
বান্দা মুহাম্মদ ইয়াকুব
আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করে দিন।
২৮ আগস্ট ২০১৬

প্রফেসর সানাউল্লাহ সাহেব (ভারত, যিনি ফ্রান্সে তাবলিগের মেহনত চালু করেছিলেন) এর বিশেষ সোহবতপ্রাপ্ত জনাব Mustafa Kamal এর সঙ্গে ইতঃপূর্বে আপনাদের পরিচয় করে দিয়েছি। আজ তাবলিগের সংকটের উৎপত্তি বিষয়ক তাঁর পোস্ট ও কমেন্টগুলোকে ডাইলোগ আকারে নিচে উপস্থাপন করলাম। আপনাদের কোনো প্রশ্ন থাকলে এ সুযোগে তা করতে পারেন।

মুমতাহিন আফসান: হযরতজী এনামুল হাসান রহ. এর মৃত্যুর পরে নতুন আমির নির্ধারণের জন্য যে মাশওয়ারা হয়েছিল সে সম্পর্কে আপনি কতটুকু জানেন?

Mustafa Kamal: জি, এ সম্পর্কে আমি বেশ ভালো করেই জানি। ১২ জুন ১৯৯৫ সালের নিজামুদ্দিনের সেই মাশওয়ারাতে আমি ছিলাম। শুরা গঠনের জন্য রায় দিতে দেখেছিলাম হাজী আব্দুল ওয়াহাব সাহেব ও মাওলানা ইজহারুল হাসান রহ. কে। আকাবির হজরতদের মধ্যে বেশির ভাগ কেউ রায় দিচ্ছিলেন না।
অন্যান্য পিছনে বসা সাথীদের বেশির ভাগের রায় যখন মাওলানা জুবাইরুল হাসান রহ অথবা মাওলানা ইজহারুল হাসান রহ. কে আমির বানানোর জন্য আসতে থাকে তখন মৌলভি সাদ সাহেব নিজের রায় জোরদার ভাবে পেশ করেন।কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো ফায়সালা সবার সামনে সেদিন হয়নি। পরবর্তীতে তাঁরা আলাদা ভাবে খুসুসি মাশওয়ারাতে বসেন। দুদিন পরে জানা যায় যে, যে শুরা হযরতজি মাওলানা ইনামুল হাসান রহ. বানিয়েছিলেন সেটাই কার্যকরী থাকবে 
আর নিজামুদ্দিনে হিন্দুস্তানের মাশওয়ারার নিজাম ৫ শুরার তত্ত্বাবধানে চলবে। শুরুতে ফয়সাল মাওলানা ইজহারুল হাসান রহ. ই থাকতেন।

মুমতাহিন আফসান: সে মাশওয়ারায় সাদ সাহেব শূরা পদ্ধতি চেয়েছিলেন নাকি আমিরী পদ্ধতি? কেনো? তখন কি তাঁর আমির হওয়ার সম্ভাবনা ছিল?

Mustafa Kamal: ১৯৯৫ সালের আলমি মাশওয়ারাতে আমিরের পরিবর্তে শুরা গঠনের জন্য সবচেয়ে বড়ো দাবিদার (রায় নয়, একেবারে জোরদার আওয়াজে দাবিদার) ছিলেন মৌলভি সাদ সাহেব। উনি শুরার সবচেয়ে বড়ো সমর্থক গত ২৫ বছর থেকে।

উনার সেই সময় শুরা গঠনের দাবি করার কারণ কি সেটা আল্লাহ ভালো জানেন। কিন্তু এটা প্রায় পরিষ্কার ছিল আমির বানানো হলে মাওলানা ইজহারুল হাসান রহ. অথবা মাওলানা জুবাইরুল হাসান রহ. কেই বানানো হতো। মৌলভি সাদের জন্য কারোর রায় ছিল না।

মুমতাহিন আফসান: মাওলানা ইয়াকুব সাহেব ও মাওলানা জুহাইরুল হাসান সাহেব নাকি এখনও নিজামুদ্দিনেই আছেন এবং সাদ সাহেবকে আমির মেনে নিয়েছেন? এ সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কি?

Mustafa Kamal: নিজামুদ্দীন এ বাংলাওয়ালী মসজিদের সবচেয়ে পুরানো আকাবির হলেন মাওলানা ইয়াকুব সাহেব দা:বা: যিনি গত ৫৩ বছর যাবত মাদরাসা কাশিফুল উলুম এ বুখারী পড়িয়েছেন। উনার ছাত্র হলেন মাওলানা হারুন রহ.( সাদ সাহেবের পিতা) ও মৌলভি সাদ সাহেব। বস্তি নিজামুদ্দীনেই ওনার নিজস্ব বাসা আর এখনো মাঝে মধ্যে ওনার বয়ান ও দুয়ার আমল হয়। ইন্ডিয়ার তাবলীগের মুরুব্বিদের মধ্যে উনিই সবচেয়ে প্রবীণ ও বড়দের সোহবতপ্রাপ্ত ও অভিজ্ঞ আকাবির (উনি এক খোলা চিঠিতে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন)।উনি ওনার নিজস্ব বাসা বস্তি নিজামুদ্দিনেই থাকেন। বাংলাওয়ালী মসজিদ থেকে কিছু দূরে; আর ওনাকে যদি বয়ান করতে বা দুআ করাতে বলা হয় তাহলে সেটা উনি করে আসেন। ঠিক একই ব্যাপার মাওলানা জুহাইরুল হাসান সাহেবের। তবে ইনারা মাশওয়ারাতে বসেন না এবং মৌলভি সাদ সাহেবকে আমির মানেন না বা তাঁর নতুন নেহাজের সমর্থক নন। তাঁরা আলমি শুরার সমর্থক ।

সুফি সন্ধানে ##আমার প্রশ্ন এতাতিরা দাবী করছে...পরপর তিনদিন মাশোয়ারার পর সিদ্ধান্ত হয় এখন এই কাজের জিম্মাদার বা কাজ নিয়ে চলবেন তিনজন..ইজহারুল হাসান সাহেব...যুবাইরুল হাসান সাহেব..মাওলানা সাদ সাহেব..ঐ দিনই সাদ সাহেব জিম্মাদার বা আমির হয়েগেছেন..বাকি দুজন মারা যাবার পর তিনিই একমাত্র জিম্মাদার আছেন...এটা কি ঠিক কথা????

Manage

LikeShow more reactions

 · Reply · 3w

Mustafa Kamal সুফি সন্ধানে তাবলীগের আলমী কাজ এর দায়িত্ব দশ শুরার সংগঠিত মাশওয়ারার দ্বারা চলবে এই ফায়সালা হয়েছিল, ইনারা নিজেদের মধ্যে কোনো একজনকে বদলে বদলে ফয়সাল বানাবেন. 

আর ইন্ডিয়ার মাশওয়ারা ও নিজামুদ্দিন এর নিজামএর জন্য পাঁচ শুরা বানানো হয়েছিল, যাতে প্রথমে তিন জন ফয়সাল ছিলেন পরে পাঁচ জনই ফয়সাল ছিলেন. এই পাঁচ জন ছাড়া আলমী শুরাতে আরও পাঁচ জন ছিলেন যার মধ্যে হাজী সাহেব এখনো বেঁচে আছেন আলহামদুলিল্লাহ

1

Manage

LikeShow more reactions

 · Reply · 3w

Mustafa Kamal তাবলীগের আলমী কাজ এর দায়িত্ব দশ শুরার সংগঠিত মাশওয়ারার দ্বারা চলবে এই ফায়সালা হয়েছিল, ইনারা নিজেদের মধ্যে কোনো একজনকে বদলে বদলে ফয়সাল বানাবেন. 

আর ইন্ডিয়ার মাশওয়ারা ও নিজামুদ্দিন এর নিজামএর জন্য পাঁচ শুরা বানানো হয়েছিল, যাতে প্রথমে তিন জন ফয়সাল ছিলেন পরে পাঁচ জনই ফয়সাল ছিলেন. এই পাঁচ জন ছাড়া আলমী শুরাতে আরও পাঁচ জন ছিলেন যার মধ্যে হাজী সাহেব এখনো বেঁচে আছেন আলহামদুলিল্লাহ

Manage

LikeShow more reactions

 · Reply · 3w

সুফি সন্ধানে ##আমার আরেকটা প্রশ্ন..জানিনা অন্যভাবে নিবেন কিনা?? দারুল উলুম দেওবন্দ যেখানে সাদ সাহেবের ব্যাপারে আশংকা প্রকাশ করলেন..আর বাস্তবে আমরাও দেখছি দিন যাচ্ছে আর সাদ সাহেবের পক্ষের লোকগুলো মাদ্রাসা আর উলামা বিদ্বেষ হচ্ছে সেখানে মাজাহেরুল উলুম এবং ওয়াকফ দেওবন্দ কিভাবে সাদ সাহেবের ভুল গুলোকে সহিহ প্রমান করার কোশেষ করলো....??

Manage

LikeShow more reactions

 · Reply · 3w

اهلا سهلا এটা আমারও প্রশ্ন

Manage

LikeShow more reactions

 · Reply · 3w

Mustafa Kamal মাওলানা সায়ীদ আহমদ খাঁ সাহেব রহঃ প্রতিবছর দশ দিন আলীগড় এ আসতেন. 
12-14 জুন 1995 আলমী মাশওয়ারা যাতে আমিও আলীগড় এর জিম্মাদার দের খাদিম হিসাবে ছিলাম ; সেই মাশওয়ারা তে যদিও ফয়সাল মিয়াঁজী মেহরাব সাহেব ছিলেন কিন্তু উনি সর্বদা পান চিবাতে ছিলেন, মাশওয়ারা মধ্যব…See More

1

Manage

LikeShow more reactions

 · Reply · 3w

Dawat Illah তাহলে বলেন দুনিয়ার কোন ফয়সালা দশ শুরা মিলে করছে?

Manage

LikeShow more reactions

 · Reply · 3w

Dawat Illah আর মাও যুবায়ের সাব জীবিত থাকতে তখন কেন এই শুরা বানাইলনা। নিজামুদ্দিনের সব সাথি কেন চলে গেলনা

Manage

LikeShow more reactions

 · Reply · 3w

اهلا سهلا এই শুরার মধ্যে ইয়াকুব ছাহেব এবং দেওলা ছাহেব ও লাট ছাহেবের মত পুরানাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই কেন? যেখানে মৌলভি সাদ ছাহেবের মত নওজোয়ানদেরকে রাখা হয়েছে

Popular posts from this blog

৫ ওয়াক্ত নামাজের পর এই দুয়া করলে আল্লাহতালা কিয়ামতের দিন সহায় হবেন, আর দুনিয়াতে নফসের খারাবি থেকে হেফাজত করবেন। এই দুয়াতে অনেক শেফা রয়েছে।

হযরত মাওলানা সা’দ সাহেব (দা.বা.) এর বয়ান